হঠাৎ কেন বাড়লো চালের দাম?

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রথম পাতা ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৪০

কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে বেড়ে গেছে চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হঠাৎ কেন দাম বাড়লো এর কোনো জবাব নেই ব্যবসায়ীদের কাছে। দাম বাড়ার পেছনে মিলারদের কারসাজি থাকতে পারে বলে অভিযোগ তাদের। ক্রেতারা বলছেন, বাজারে কোন মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। এইক সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। বাজারে প্রতিকেজি নাজিরশাইল চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট ৫০ টাকা, মোটা চাল ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা ৩ থেকে ৪ দিন আগেও কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা কম দামে বিক্রি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি ব্যবসায়ীদের।
যদিও বাজার ঘুরে দেখা গেছে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবজারের সজিব রাইস এজেন্সির মালিক সজিব বলেন, বাজারে চালের সরবরাহ কমে গেছে। গতকাল ৫০ বস্তা আড়ত থেকে আনতে গেলে ২০ দিয়েছে। আবার আগের চেয়ে প্রতিমণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে কিনতে হয়েছে। কী আর করা, দোকান চালাতে হলে চাল লাগবে। তাই প্রতিমণ চালে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়িয়ে কয়েক ধরনের চাল এনে দোকান চালাচ্ছি।

হাতিরপুল কাঁচাবাজারের মিন্টু রাইসের স্বত্বাধিকারী মিন্টু জানান, প্রতিকেজি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, আটাশ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং পোলাওয়ের চাল ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা ৪ থেকে ৫ দিন আগেও কেজিতে ৪ থেকে ৭ টাকা কম দামে বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, আনেক ক্রেতা আমাদের ওপর চড়াও হয়। দাম বাড়ার কারণ জানতে চান। তাদের বোঝাতে পারি না যে এতে আমাদের কিছুই করার নেই। দামতো বাড়ায় মিলাররা আমাদের কি করার? আমাদের চালান বাড়ে কিন্তু লাভ বাড়ে না। তাই দাম কমলে আমাদেরও সুবিধা হয়। তিনি বলেন, এটা দায়িত্ব সরকারের। বাজার নিয়ন্ত্রণ না করে মিলারদের নিয়ন্ত্রণ করতে বলেন তিনি।

এদিকে টিসিবি’র বাজার তালিকা অনুযায়ী, সরু চালের দাম প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ থেকে ৫৬ টাকার মধ্যে।  এক মাসের মধ্যে বাড়ছে ২.৯১ শতাংশ। অন্যদিকে, মোটা চালের দাম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ২৮ থেকে ৩৫ টাকা। আর এক মাসের মধ্যে এই মানের চালের দাম বেড়েছে ১০.২৯ শতাংশ।

চাল ব্যবসায়ী মো. আমির বলেন, মিলাররা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ায়। যার প্রভাব পড়ে বাজারে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আবার আড়তদারেরও কিছু করার নেই। মিলাররা দাম কমালে আড়তদাররাও কমান। তখন আমরাও কমে বিক্রি করি। তৈয়ব নামের একজন ক্রেতা জানান, সরকার বাজার মনিটরিং না করায় ব্যবসীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। শুধু চাল নয় সব নিত্যপণ্যের দামই দিনদিন বেড়েই চলছে। এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে মনে করেন তিনি। বাদামতলী-বাবুবাজার চাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বলেন, মিলাররা নতুন করে চাল সরবরাহের অর্ডার নিচ্ছে না। পুরনো অর্ডারের চালে বাজার চালাচ্ছি। নতুন অর্ডারের চাল পেলে দাম বাড়বে।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আবহাওয়া খারাপ ছিল। বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ভয়ে পাটের বস্তাভর্তি চালের ট্রাক আমরা রাজধানীতে পাঠাইনি, এটি ঠিক। কিন্তু, তাতে রাজধানীর বাজারে চালের সংকট হওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কারণ, রাজধানীর বাজারগুলোতে এমনিতেই ৮ থেকে ১০ দিনের চাল অতিরিক্ত মজুত থাকে। তিনি বলেন, সাধারণত পাইকারি ব্যবসায়ীরাই তাদের নিজেদের গুদামে এ ধরনের মজুত করেন, যেন বাজারে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। সরবরাহ কম, এমন অজুহাতে যারা চালের দাম বাড়িয়েছেন তারা কাজটি ভালো করেননি। ওদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি’র হিসেবেও গত কয়েক দিনে বাজারে চালের দাম বেড়েছে।

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

স র জ মি ন

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কেউ ভালো নেই

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

রুম্পার মৃত্যু

ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মেলেনি

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

ব্যাংক কমিশন গঠন

অগ্রগতির খবর নেই

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ

কারাগারে থেকেও দুই ছাত্রদল নেতা মামলার আসামি

১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

আদালতে চোখ ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের

কত রক্ত বইলে তাকে গণহত্যা বলা যায়

১৩ ডিসেম্বর ২০১৯





আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত