ফের দুর্ঘটনায় ট্রেন

পুড়লো রংপুর এক্সপ্রেসের ৫ বগি, আহত ২৫

সিরাজগঞ্জ ও উল্লাপাড়া প্রতিনিধি

শেষের পাতা ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০১

তিনদিনের ব্যবধানে ফের ঘটলো ট্রেন দুর্ঘটনা। রেলপথের ত্রুটি ও সিগন্যাল ভুলের কারণে এবার রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে পুড়লো ৫ বগি। বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে ঈশ্বরদী-ঢাকা রেলপথে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলস্টেশনের লেভেল ক্রসিংয়ে রংপুর আন্তঃনগর এক্সপ্রেসটি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের ইঞ্জিনটি ছিঁড়ে রেলপথের পাশে উল্টে পড়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই আগুন লাইনচ্যুত আরো ৩টি বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ট্রেনের যাত্রীরা দ্রুত জানালার কাঁচ ভেঙে এবং দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান। ওই সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তাদেরকে স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে এই দুর্ঘটনায় কোন যাত্রী নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় রেলকর্মী সহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। রংপুর মিটার গেজের এই এক্সপ্রেসটি ঢাকা থেকে রংপুর যাচ্ছিল।

উল্লাপাড়া লেভেল ক্রসিংয়ের ৫০ মিটার দূরে রেলপথ পরিবর্তনের স্থানে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ৭টি বগির মধ্যে দুটি বগি মূল রেলপথ থেকে অন্তত ১৫ মিটার দক্ষিণ দিকে চলে যায়। ট্রেনে মোট ১৪টি বগি ছিল। ঘটনার পরপরই উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনা স্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে সিরাজগঞ্জ ও কামারখন্দ ফায়ার  স্টেশনের কর্মীরা আগুন নেভানো এবং উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। উল্লাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যাত্রীদের মালামাল সংরক্ষণের জন্য ট্রেনটি ঘিরে ফেলে।

রংপুর এক্সপ্রেসের আহত যাত্রী রংপুর শহরের মিস্ত্রীপাড়া মহল্লার আদনান সিদ্দিকী উল্লাপাড়া ৩০ শয্যা (সদর) হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মানবজমিনকে বলেন, স্টেশনে ট্রেনটি আসামাত্রই বিকট শব্দ হয় এবং ভেতরে ঝাঁকুনি শুরু হয়ে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এসময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেনের দরজা-জানালা চাপ খেয়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পাথর দিয়ে জানালার কাঁচ ভেঙে আমাদের উদ্ধার করেন।

সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের উপ-পরিচালক মঞ্জিল হক ঘটনাস্থলে এসে জানান, দুর্ঘটনার পর আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। তবে কোন যাত্রীর মরদেহ ট্রেনে পাওয়া যায়নি। কিছু যাত্রী আহত হয়েছে, তাদেরকে স্থানীয় লোকজন চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেছে। উল্লাপাড়া ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার নাদির হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পরে প্রথমে রংপুর এক্সপ্রেসের উল্টে যাওয়া ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় এবং আগুন দ্রুত পার্শ্ববর্তী বগিগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ৩টি বগির শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অপর ২টি বগি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে থাকা উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান এবং ট্রেন যাত্রীদের নিরাপত্তা দেন। ঘটনার পরে উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান ও পৌর মেয়র এস.এম. নজরুল ইসলাম দুর্ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে সহযোগিতা করেন। উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, ট্রেনের ড্রাইভার সহ ৫/৬ জন রেলকর্মী আহত হয়েছেন। এদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রেলপথের ত্রুটির কারণে এবং সিগন্যাল ভুলের কারণে ট্রেনটি দুর্ঘটনায় কবলিত হয়। তবে উল্লাপাড়া স্টেশনে দায়িত্বরত সহকারী স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম সিগন্যাল ভুলের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, রেলপথের ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে পশ্চিম রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান জানান, ট্রেন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এই মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় ট্রাফিক কর্মকর্তা (ডিটিও) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনার পর বেলা ২টা থেকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে উল্লাপাড়া লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনের কয়টি বগি দাঁড়িয়ে থাকায় প্রায় ২ ঘণ্টা পাবনা-বগুড়া ও পাবনা-ঢাকা মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।     

তদন্তে ৪ কমিটি গঠন
ট্রেন লাইনচ্যুত ও আগুন লাগার ঘটনায় ৪টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পরই রেল মন্ত্রনালয়, রাজশাহী বিভাগীয় অফিস, পাকশী প্রধান কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সকল কমিটি গঠন করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মাদ জানান, ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ জানতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফিরোজ মাহমুদকে প্রধান কমিটি গঠনের কথা জানালেও অন্য সদস্যদের নাম ও সময়সীমা বলেননি তিনি। তবে তিনি বলেছেন ঘটনা পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ডিভিশনাল ম্যানেজার (পাকশী) মিজানুর রহমান জানান, পাকশী প্রধান কার্যালয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল আল মামুনকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনিও তাৎক্ষনিক অন্য সদস্যদের নাম ও সময়সীমা জানাতে পারেননি। এদিকে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা স্থানীয়ভাবে জানা গেলেও বিস্তারিত জানা যায়নি।

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

আসামে কারফিউ শিথিল, নাগাল্যান্ডে ধর্মঘট

দ্বিতীয় দিনেও পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

কেরানীগঞ্জে আগুন

সাখাওয়াতের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সংগ্রাম সম্পাদক রিমান্ডে

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সিলেটে ফের গ্রেপ্তার দু’জন

বোরকা পরে চুরি করে বেড়ায় সীমা ও শামীমা

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯





আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



কড়া নিরাপত্তা, এজলাসে সিসি ক্যামেরা

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি কাল