সাক্ষাৎকার

প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার ঘিরে কোনো সিন্ডিকেট নেই

দেশ বিদেশ

কাজী সোহাগ | ৯ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার ঘিরে কোনো সিন্ডিকেট নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী মো.সাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর এদেশের নির্মাণ শিল্পের পথিকৃৎ। সামপ্রতিক কিছু ঘটনায় আমাদের ভাবমূর্তি কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও আশা করছি আমরা কাজের মাধ্যমে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে পারবো। সম্প্রতি ঠিকাদার ব্যবসায়ী জি কে শামীম আটকের পর আলোচনায় উঠে আসে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারটি নিয়ে। কারণ জি কে শামীমের জবানবন্দিতে উঠে আসে ঠিকাদার কাজ পেতে এর আগের প্রধান প্রকৌশলীদের তিনি ১২ হাজার কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। পাশাপাশি কাজ পেতে তিনি তৈরি করেছিলেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এসব নিয়ে সম্প্রতি গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন কথা বলেছেন মানবজমিনের সঙ্গে। কেমন চলছে গণপূর্ত অধিদপ্তর? তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশে বিশাল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৩৫টি মন্ত্রণালয়ের অধীন এডিপিভূক্ত ১৯৪টি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। এসব কাজ সঠিক সময়ে ও গুণগতমান অক্ষুণ্ন রেখে সম্পন্ন করতে গণপূর্ত অধিদপ্তর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সামপ্রতিক কয়েকটি ঘটনায় কিছু কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তবে আমরা আশা করছি এ সমস্যাগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠব। তিনি বলেন, জি কে শামীম গ্রেপ্তারের পর অনেকগুলো বিষয়ই আলোচিত হয়েছে। যেহেতু সে এ অধিদপ্তরের ঠিকাদার ছিল তাই এ অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিষয়ও এসেছে। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ন হলো সরকারি বিধিবিধান সঠিকভাবে পালন হয়েছে কিনা এবং সেটি পালন করা হলে আমি কোন সমস্যা দেখি না। অধিদপ্তর ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং তদন্তে প্রমানিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করে। অতীতে দেখা গেছে বদলী নিয়ে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এমনকি বদলীর রেকর্ডও আছে। এটা নিয়ে আপনার ভূমিকা কি প্রশ্নে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাধারনত সরকারের বিদ্যমান আইন বিধি ও নীতিমালা অনুসরণ করে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে বদলী ও পদায়ন হয়ে থাকে। সমপ্রতি সংসদীয় কমিটি ই-টেন্ডারের উপর গুরুত্ব দিয়েছে। এ বিষয়ে আপনি কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন কি? উত্তরে তিনি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর বেশ কয়েক বছর ধরে দরপত্রের সকল প্রক্রিয়া শতভাগ ই-টেন্ডারের মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছে। সমপ্রতি দুদক ১০টি দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করেছে। আপনি এর সঙ্গে কতটুকু একমত। তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করছি। দুদক যে ২০ দফা সুপারিশ করেছে তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য প্রশ্নে সাহাদাত হোসেন বলেন, দুদক যে ২০ দফা সুপারিশমালা প্রদান করেছে সেগুলো দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ কার্যক্রম গ্রহন করা হবে। ইতোমধ্যে বেশকিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট সুপারিশগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। আশা করছি আমরা সবগুলো সুপারিশ বাস্তবায়ন করবো। অধিদপ্তর নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, অধিদপ্তরের জনবল কাঠামো যুগোপযোগী করা আমার প্রথম লক্ষ্য। গণপূর্ত অধিদপ্তর পূর্বের ন্যায় দ্রুততম সময়ে কোয়ালিটি কাজ করে যাবে এটা আমার বিশ্বাস। তাছাড়া পরিবেশ সম্মত ভবন নির্মাণে গণপূর্ত অধিদপ্তর অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

জাতিসংঘ টিমের ভাসানচর পরিদর্শন স্থগিত

দুবাই এয়ারশোতে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চৌদ্দগ্রামে মিজানের ষোল আনা রাজত্ব

হলি আর্টিজান মামলার রায় ২৭শে নভেম্বর

প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া বিএনপি’র চিঠিতে যা আছে

হঠাৎ বিস্ফোরণ মুহূর্তেই সব শেষ

এভাবেও হতে পারে দেশপ্রেম

সিলেটে ডিজেল সংকট চরমে

ভেঙে দেয়া হচ্ছে সিলেট জেলা বিএনপি’র অধিভুক্ত ১৭ ইউনিট

দামামা বাজছে গোলাপি লড়াইয়ের

৪০ শতাংশ কোটা রেখে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ

অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে সব রাষ্ট্রের সহায়তার আহ্বান

২৫শে নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে খালেদার আপিল শুনানি

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন গোটাবাইয়া রাজাপাকসে

৬৬ হাজার টনের এলসি খোলা হয়েছে এসেছে ৭ হাজার টন

দুদকের মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে সম্রাট