মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্যে বাড়ে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই। মায়ের দুধের পরিবর্তে যদি এসব তথাকথিত শিশুখাদ্য খাওয়ানো হয় তাহলে নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার ১৫ গুণ বেড়ে যায়। আর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঝুঁকি বাড়ে ১০ গুণ। সম্প্রতি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন (আইপিএইচএন)-এর সভাকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়। নিউট্রিশন সোসাইটি অব বাংলাদেশ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় বক্তারা বলেন, এ সংক্রান্ত আইন থাকার পরেও শুধু কমিশনের লোভে এক শ্রেণীর চিকিৎসক নিয়মিত তাদের ব্যবস্থাপত্রে শিশুখাদ্য লিখে থাকেন। দেশজুড়ে আইন অমান্য হচ্ছে। এ বিষয়গুলো নজরে আসার পরে একাধিক শিশু চিকিৎসককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শিশু খাদ্য প্রস্তুত ও বিপণনকারী তিনটি বহুজাতিক কোম্পানিকে সতর্কতামূলক চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া দর্শনীয় স্থানে প্রদর্শন করে বিক্রির কারণে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে খুলনা শহরের দুটি ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়েছে। বক্তারা আক্ষেপের সঙ্গে আরো বলেন, ঢাকায়ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু ঢাকার ওষুধ বিক্রেতাদের হুঙ্কারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ঘাবড়ে যান। তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে উচ্চ আদালতে এ সংক্রান্ত ৮টি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। সোসাইটির সভাপতি ড. এস কে রায়ের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন আইপিএইচএন’র পরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ জাহান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. খলিলুর রহমান বলেন, গণসচেতনতা সৃষ্টি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং মাতৃদুগ্ধের বিকল্প শিশুখাদ্যের নামে বিজ্ঞাপন প্রচার থেকে বিরত থাকতে দেশের সব গণমাধ্যমে চিঠি দেয়া হবে। এছাড়া নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাজধানীসহ সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুখাদ্য মাতৃদুগ্ধের বিকল্প হিসেবে বিক্রি ও বিপণন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ২০১৩ সালে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন হয় এবং ২০১৭ সালে বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু তারপরও এক শ্রেণীর চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্মী, বিক্রয় ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত এ আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ৫ই নভেম্বও থেকে এ পর্যন্ত একাধিক চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন (আইপিএইচএন)। বাংলাদেশ পুষ্টি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এস কে রায় আইন ও বিধিমালা অনুসারে উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ সমূহ উপস্থাপন করেন।
মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য বা উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদির আমদানি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন, বিপণন, বিক্রয় বা বিতরণের বিষয়ে- আইনে বলা আছে-কোন আমদানিকারী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদনকারী, বিপণনকারী, বিক্রয় বা বিতরণকারী বা কোন ব্যক্তি, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কোন ধরনের বিজ্ঞাপন মুদ্রণ, প্রদর্শন, প্রচার বা প্রকাশ বা অনুরূপ কোন কাজ করতে পরবে না, কোন ধরনের জনসচেতনতামূলক কাজ করতে পারবে না, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, স্বাস্থ্য, পুষ্টি বা শিক্ষা ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত কোন ব্যক্তি, ছাত্র-ছাত্রী বা তাহাদের পরিবারের কোন সদস্যের নিকট কোন লিফলেট, হ্যান্ডবিল বা অনুরূপ কোন দলিল, আর্থিক প্রলোভন বা অন্য কোন উপহার বিতরণ করতে পারবে না, কোন সেমিনার, কনফারেন্স, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, বৈজ্ঞানিক সভা, শিক্ষা সফর বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানসহ উচ্চ শিক্ষায় বা কোন গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের আয়োজন ও অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক বা অন্য কোন সুবিধা প্রদান করতে পারবে না। সভাপতি আরো বলেন, শিশুর জীবন রক্ষা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে একান্তভাবে অপরিহার্য বিবেচিত হলে (সকল উপায় অবলম্বন এবং চেষ্টা করার পরও মায়ের দুধ পাওয়া না গেলে), কেবলমাত্র নিবন্ধিত ও রেজিস্টারভুক্ত কোন মেডিকেল চিকিৎসক, উপযুক্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে, মাতৃদুগ্ধ বিকল্প খাদ্যেও কোন ব্যবস্থাপত্র প্রদানসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন। শিশুর বয়স ৬ মাসের পর থেকেই সে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি বিভিন্ন বাড়তি খাবার খেতে পারে। এ সময় শুধুমাত্র ব্যবসায়ীক চিন্তা ভাবনা থেকেই মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্যের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী কোন মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশু খাদ্য এখন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন পায় নাই। যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের কোন বিধান লংঘন করেন, তা হলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোন শিশু অসুস্থ হলে বা মৃত্যুবরণ করলে তা হবে আইনের অধীন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং তজ্জন্য উক্ত গুঁড়াদুধ, শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য বা উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদির প্রস্তুতকৃত কোম্পানী ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০, লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দন্ডনীয় এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্থ শিশুর পরিবারকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রদান করা হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

চৌদ্দগ্রামে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, বখাটে গ্রেপ্তার

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা শুরু, পরীক্ষায় বসছে ২৯ লাখ শিক্ষার্থী

কঠিন লড়াইয়ে গোটাবাইয়া-প্রেমাদাসা, দিনশেষে ঘোষণা হবে বিজয়ীর নাম

শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগের সম্মেলন

‘এটা খুব ইতিবাচক দিক’

পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ইরানে নিহত ২

পিয়াজ বোমায় কাবু দেশ

পিয়াজ বিমানে উঠে গেছে, আর চিন্তা নেই

ক্যাসিনো কাণ্ড: দু’মাসে ৫০ অভিযান, এরপর কি?

এবার চালবাজি

বিয়েতে পিয়াজ উপহার

শ্রমিক নিয়োগে সিঙ্গাপুর মডেল

অতি মুনাফার পিয়াজ এবার ময়লার ভাগাড়ে

চুয়াডাঙ্গায় পিয়াজের বাজারে অভিযান অবরুদ্ধ ম্যাজিস্ট্রেট

ছাই থেকে জ্বালানির খোঁজে মুমিনুল

সারা দেশে বিএনপি’র প্রতিবাদ সমাবেশ কাল