সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের

সমাবেশে পুলিশের বাধা

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৫৯
বেতন বৃদ্ধি ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করতে পারেননি প্রাথমিক শিক্ষকরা। সমাবেশে যোগ দিতে আসা শিক্ষকদের পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। পুলিশ সকাল থেকেই ঘিরে রাখেন শহীদ মিনার এলাকা। সারাদেশ থেকে আসা হাজার হাজার শিক্ষক শহীদ মিনারে যেতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। করা হয় লাঠি চার্জ। বাধার মুখে শিক্ষকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পুলিশের আঘাতে এসময় আহত হন বেশ কিছু শিক্ষক। আহত শিক্ষকদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়।
শিক্ষকরা শহীদ মিনারের পাশের এলাকায় বিক্ষোভ-মিছিল করতে থাকেন। সেই সঙ্গে দিতে থাকেন বিভিন্ন স্লোগান। মহাসমাবেশে ব্যর্থ শিক্ষকরা ১৩ই নভেম্বরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে আসন্ন সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের হুমকি দেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের ১০ম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের দাবি করে আসছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৪টি সংগঠন নিয়ে গঠিত ‘প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’ এই মহাসমাবেশের ডাক দেয়। একই দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১৪ই অক্টোবর ২ ঘণ্টা, ১৫ই অক্টোবর ৩ ঘণ্টা ও ১৬ই অক্টোবর অর্ধদিবস ও ১৭ই অক্টোবর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। গত মঙ্গলবার থেকেই সারাদেশ থেকে রাজধানীতে আসতে শুরু করেন শিক্ষকরা। পঞ্চগড় থেকে এসেছেন শিক্ষক এনাতুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের যৌক্তিক দাবিতে প্রশাসন বরাবরই চুপ। আমরা শিক্ষক। আমরা জাতির মেরুদণ্ড তৈরি করি। আর আমাদের যৌক্তিক দাবি জানানোর কারণে পুলিশের লাঠিপেটা হতে হলো। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।  আবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয় এই মহাসমাবেশে যোগ না দিতে ৩টি পরিপত্র জারি করা হয়েছিলো। সোমবার জারি করা শেষ পরিপত্রে বলা হয়, আগামী ২৩শে অক্টোবর কতিপয় শিক্ষক সংগঠন ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। সে সমাবেশেকে ঘিরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে বিধায় ওই দিন আখেরি চাহা সোম্বার ছুটি থাকলেও শিক্ষকরা যেন কর্মস্থল ত্যাগ না করেন। 

প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের দাবিতে ২০১৭ সালে শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে বসলে তৎকালীণ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ১ মাসের মধ্যে শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই আশ্বাসে শিক্ষকরা আমরণ অনশন স্থগিত করেন। কিন্তু ২ বছর পার হলেও শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন হয়নি। জাতীয় নির্বাচনের আগে শিক্ষকরা আবারো আন্দোলনের ডাক দিলে বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০ মাস পার হয়ে গেলেও সঠিক কোনো উদ্যোগ না থাকায় শিক্ষকরা আবারও আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, কর্তৃপক্ষ সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতনের বাস্তবায়নের এই দাবিতে আন্তরিক নন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কারো আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করবো না।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ফ্লোরিডায় নৌঘাঁটিতে হামলা, বন্দুকধারীসহ নিহত ৪

দূষণে বাড়ছে মৃত্যু সর্বাধিক ঝুঁকিতে শিশুরা

বিমর্ষ ওরা তিন জন

হাস্যোজ্জ্বল মেয়েটিকে মারলো কে?

‘বন্ধু ভারত যেন আতঙ্ক জাগানো কিছু না করে’

ভ্রাম্যমাণ হকার সিন্ডিকেট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই কোটিপতি পিয়ন গ্রেপ্তার

চলছে দাম বাড়ানোর ঘষামাজা

আওয়ামী লীগে নতুন হিসাব

নতুন জীবনে সৃজিত-মিথিলা

বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন: কাদের

বিএসএমএমইউ ভিসি আদালত অবমাননা করেছেন: ফখরুল

সোমবার লোকসভায় পেশ হবে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল

বিচারের মুখোমুখি সুচি, রয়টার্সের বিশ্লেষণ

মোবাইলফোনের একটি কলে ভেঙে যেতে পারে সুন্দর সম্পর্ক

বিদেশি ঋণ পরিশোধের শর্ত শিথিল