বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ক্ষমতাধর জয়

ষোলো আনা

বেরোবি প্রতিনিধি | ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০০
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে টর্চার সেলের কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল ইসলাম জয়। হলে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ওঠানো। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে চাঁদা দাবি। হলে মাদকের রমরমা ব্যবসা ও আবাসিক হলের কক্ষে বহিরাগতদের নিয়ে মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও দিনের পর দিন নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে প্রশাসন। এমনকি একটি ঘটনার পর জয় তার অপরাধ স্বীকার করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জানা যায়, হল প্রশাসন কর্তৃক সিট বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষার্থীরা জয়কে চাঁদা না দিয়ে হলে উঠতে পারে না।

সর্বশেষ গত ২৭শে সেপ্টেম্বর রায়হানুল কবির নামের এক শিক্ষার্থীর কাছে চাঁদা দাবি করে জয়।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আবুল কালাম আজাদসহ ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। একইসঙ্গে ২ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে হল ছাড়ার হুমকি দিলে তাজহাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ওই শিক্ষার্থী। একই দিন আরো একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন জয়। পুনরায় মারধরের ভয়ে কারো কাছে অভিযোগ করেনি ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। এ ছাড়া, ১৯শে সেপ্টেম্বর চাঁদা দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্ত্রীয় ক্যাফেটোরিয়া বন্ধ করে দেন তিনি। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আবাসিক হলে বৈধ সিটে উঠতে চাওয়ায় আল আমিন ও সৌম্য সরকার নামে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন ছাত্রলীগের এই নেতা। পরে  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ এবং থানায় মামলা করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। তারা ২ জনই বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য।

চলতি বছরের ২৭শে এপ্রিল শহীদ মুখতার ইলাহী হলের ডাইনিং বয় জাকির হোসেনের কাছে চাঁদা না পেয়ে নির্যাতন করে হলে অবৈধভাবে অবস্থান করা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল ইসলাম জয়। এদিকে মারধরের পর চাঁদা না পাওয়ার জেরে হলের ডাইনিং কক্ষে তালা দেন জয়। এ ছাড়াও জয়ের কক্ষে নতুন শিক্ষার্থীদের আচরণ শেখানোর নাম করে চাঁদা দাবি, চাঁদা না দিলে মাদক দিয়ে ফাঁসানো এবং উলঙ্গ করে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এসব অপকর্মে ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও। অতিদ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে হল থেকে বের করে দেয়ার অনুরোধ করেন শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এই বিষয়ে জয়ের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন ধরেননি তিনি। জানতে চাইলে বেরোবির শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট শাহীনুর রহমান বলেন, আমি সদ্য ওই হলের দায়িত্ব পেয়েছি। এসব বিষয়ে খুব বেশি অবগত নই। এ ধরনের অভিযোগ আসলে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Amir

২০১৯-১০-১৮ ১৮:২১:০৩

আমি সদ্য ওই হলের দায়িত্ব পেয়েছি। এসব বিষয়ে খুব বেশি অবগত নই।-----------অবগত হয়েও জ্ঞান পাপী শিক্ষক সমৃদ্ধ প্রশাসনকে জয়করা, জয়রথ উড়িয়ে যাওয়া -জয়ের উনি কিছু করতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না!

ahammad

২০১৯-১০-১৭ ১২:৪১:৪৩

সন্ত্রাসীদের কোন দল নাই, এরা সরকার পরবর্তন হলে সাথে সাথে রুপ পরিবর্তন করে নেয়। আর এদেরকে প্রশ্রয় দেয়া শিখ্খকরা, শিখ্খার কলংক,জাতীর কলংক,দেশের কলংক। এই শিখ্খক নামের পশুদের দৃষ্টন্ত মূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ,যাতে করে আগামী দিনে কেউ এধরনের দৃষ্টতা দেখানো থেকে বিরত থাকে। শিখ্খরা যদি ছাএদের সন্তানের দৃষ্টিতে দেখেন তারা যাবে কোথায় ? শিখ্খরা স্নেহ করবেন আবার প্রয়োজনে শ্বাষন ওকরবেন, কিন্তু সন্ত্রাসী দিয়ে নয়।

আপনার মতামত দিন

অপহরণের ৫দিন পর মিললো শিশুর লাশ

তামিলদেরও নাগরিকত্ব বিলে আনার আহ্বান

নাগরিকত্ব বিল মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য

‘সুচির আত্মপক্ষ সর্মথনের সুযোগ আছে বলে মনে হয় না’

কলকাতার বাজারে পদ্মার ইলিশ কিনলে পেঁয়াজ ফ্রি

শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, স্কুল কর্মচারি গ্রেপ্তার

আবেগি চিরকুট লিখে বিষপান, অধ্যক্ষের কক্ষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো নূপুর

আনোয়ারের কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করবো: মাহাথির

‘সব মিলিয়ে পছন্দ হলে সামনে জানাবো’

নিউজার্সিতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৬

সেনা প্রধানসহ মিয়ানমারের ৪ কর্মকর্তার ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

গণহত্যায় রক্তস্রোত বয়ে গেছে

আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে

জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহারের মত হাইকোর্টের

নৃশংসতার মুখপাত্র

অমিত শাহের বক্তব্যের প্রতিবাদ বিএনপি’র