ভাল রাঁধেন অভিজিত, খেটেছেন জেল

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৩

অভিনব সব তথ্য বেরিয়ে আসছে এবার অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী অভিজিত বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার পরিবার সম্পর্কে। যেমন অভিজিত ছাত্রজীবনে তিহার জেলে ১০ দিন জেল খেটেছিলেন। তার পরিবার অর্থনীতিবিদে ঠাঁসা। তার পিতা, মাতা, সবাই অর্থনীতিবিদ। তার এমন কীর্তিতে গর্বিত পরিবারের সবাই। ছেলে অভিজিতের লেখা বই ‘পুওর ইকোনমিক্স’-এর একটি কপি সাংবাদিকদের দেখিয়ে মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমার পরিবারের সবাই অর্থনীতিবিদ। ওর বাবা, আমি- আমরা সবাই এক একজন অর্থনীতিবিদ। তবে এক একজন কাজ করি ভিন্ন ভিন্ন ফিল্ডে।’ আর অভিজিতকে নোবেলজয়ী, কিন্তু খুব সাধারণ বলে বর্ণনা করেছেন তার ছোটভাই অনিরুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার যৌথভাবে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এতে এস্থার পাফলো এবং মাইকেল ক্রেমারের সঙ্গে এ পুরস্কার জেতেন অভিজিত। এর পর থেকেই তার সম্পর্কে মজাদার সব তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে। ভারতের মিডিয়ায় বলা হয়েছে, তিনি ভাল রান্না করতে পারেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতেও আছে তার দক্ষতা।  এছাড়া ছাত্রজীবনে ১০ দিন তিহার জেলে কাটাতে হয়েছিল তাকে। এই তথ্য অভিজিৎই ২০১৬ সালে জানিয়েছিলেন এক মিডিয়াকে।
১৯৮৩ সাল ছিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজিতের শেষ বছর। ঐ বছর ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্টকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে উপাচার্যকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘেরাও করেন অভিজিৎরা। সেই কারণেই তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় তিহার জেলে। ১৯৮৩ সালের ঘটনাটির সঙ্গে মিল পাওয়া যাবে ২০১৬ সালের উত্তাল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ছবির।
অভিজিৎ বিনায়ক সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখেন, ‘আমাদের রীতিমতো পেটানো হয়েছিল। তারপর তিহার জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল আমাদের নামে। এমনকি খুনের চেষ্টার ধারাতেও মামলা দেওয়া হয়। ঈশ্বরের কৃপায় পরে সেই ধারা তুলে নেয় পুলিশ। কিন্তু ১০টা দিন তিহার জেলেই রাত্রিবাস করতে হয়েছিল।’
২০১৬ সালের জেএনইউতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল তাই নিয়েই ছিল অভিজিতের ওই কলাম। নিজের লেখায় অতীত তুলে এনে এই ধরনের ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রের গা-জোয়ারি’ বলেও উল্লেখ করেন অভিজিৎ বিনায়ক। তার মতে, ১৯৮৩ বা ২০১৬ দু’বারই বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুরক্ষিত পরিসর আর নিরাপদ থাকেনি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ফলে।
ওদিকে আজ বুধবার আনন্দবাজার পত্রিকা অভিজিতের ছোটভাই অনিরুদ্ধ সম্পর্কে লিখেছে একটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, ভাল ছাত্ররা নাকি সারা দিন বই মুখে নিয়ে বসে থাকে। কিন্তু যিনি নোবেল জয় করেন তিনিও কি তাই করেন? অন্যদের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চাননি। তবে নিজের দাদাকে কখনও সারা দিন বই মুখে নিয়ে বসে থাকতে দেখেননি নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহোদর অনিরুদ্ধ। উল্টে তিনি জানালেন, আড্ডায় নাকি ভীষণ উৎসাহ অভিজিৎবাবুর। রান্নাবান্নায়ও তুখোড়।
সোমবার দিল্লি থেকে বিমানে ওঠার আগেই অনিরুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে পেরেছিলেন, দাদার নোবেল জয়ের খবর। মাঝ আকাশে ওড়ার সময়ে মনের মধ্যে চেপে রেখেছিলেন উচ্ছ্বাস। সন্ধ্যায় বিমান কলকাতার মাটি ছুঁতেই দাদা অভিজিৎকে ফোনে ধরে ছোট ভাই বলেছিলেন, ‘ফাটিয়ে দিয়েছ...!’
অভিজিৎবাবুর চেয়ে বয়সে সাড়ে চার বছরের ছোট অনিরুদ্ধ পেশায় ব্র্যান্ড ও স্ট্র্যাটেজির পরামর্শদাতা। কাজের প্রয়োজনে সোমবার দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছেন। ‘ফাটিয়ে দিয়েছ’- ভাইয়ের এ হেন শুভেচ্ছাবার্তা শুনে হেসেছিলেন একুশ বছর পরে ফের বাংলায় নোবেল এনে দেওয়া অভিজিৎ বিনায়ক।
আসলে তাদের দাদা-ভাইয়ের সম্পর্কের বাইরে নিবিড় বন্ধুত্ব রয়েছে বলেই জানান অনিরুদ্ধ। নোবেলজয়ী দাদাকে কখনও সারাদিন বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকতে দেখেছেন বলে মনে করতে পারলেন না। বললেন, ‘দাদা পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। তবে সারাদিন পড়াশোনা করত তা একেবারেই নয়। বরং দাদার প্রচুর বন্ধু ছিল। আড্ডা, গানবাজনা, সবই চলত।’
মঙ্গলবার এক বন্ধুর মাধ্যমে দাদা ও বৌদির নোবেল পাওয়ার খবর পেয়েছেন অনিরুদ্ধ। মাত্র ৫৮ বছর বয়সেই দাদা যে নোবেল পেতে পারেন, তা অবশ্য ভাবেননি অনিরুদ্ধ। তবে মা নির্মলা দেবী এবং তার বিশ্বাস ছিল, বছর পাঁচেক পরে হয়তো নোবেল পাবেন অভিজিৎবাবু। কলকাতায় সময় না হলেও দিল্লিতে দাদা-ভাইয়ের মাঝেমধ্যে দেখা হয়।
আর প্রতি বছর নিয়ম করে গরমের ছুটিতে মা নির্মলাদেবীকে নিয়ে দু’ভাই দিন দশেকের জন্য পাড়ি দেন দেশ কিংবা বিদেশের কোনও গন্তব্যে। হোটেলের আলাদা ঘরে নয়। বরং মাকে নিয়ে বাড়ি ভাড়া করেই থাকেন দুই ভাই। অনিরুদ্ধ জানান, বাইরে গেলে হেঁসেলের দায়িত্ব সামলান তার নোবেলজয়ী দাদাই। দেশি থেকে বিদেশি বিভিন্ন পদ অনায়াসেই রেঁধে ফেলেন অভিজিৎ। অনিরুদ্ধ বলেন, ‘দিল্লিতে আমাদের বাড়িতে একদিন কেক তৈরি নিয়ে কথা হচ্ছিল। আলোচনা হচ্ছিল মিষ্টি ছাড়া কেক ভাল হয় না। আচমকাই রান্না ঘরে কী কী আছে জেনে নিয়ে দাদা সটান গিয়ে সুস্বাদু অথচ মিষ্টি ছাড়া একটি কেক বানিয়ে ফেলল।’
নতুন বছরে তাঁরা সকলে মিলে পাড়ি দেবেন থাইল্যান্ডের ফুকেত। কলকাতার কাজ মিটিয়ে দু’দিনের মধ্যে দিল্লি ফিরে যাবেন অনিরুদ্ধ। শনিবার সেখানেই দেখা হবে দাদা-ভাইয়ের। প্রতি বারের মতো এ বারও দাদা বিশেষ কোনও উপহার আনবেন ভাইয়ের জন্য। তবে বিশ্বজয়ী দাদার জন্য তিনি কী উপহার কিনবেন, তা অবশ্য এখনও ঠিক করেননি অনিরুদ্ধ। হেসে বললেন, ‘কিছু একটা কিনে নেব। আমার দাদা নোবেলজয়ী, তবে খুবই সাধারণ।’

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

সাহায্য চেয়ে চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন

২৫ জানুয়ারি ২০২০

বিয়ের অনুষ্ঠানে খরচ ৫ লাখ ডলার

বাংলাদেশী সমকামী ইয়াশরিকা বিয়ে করলেন মার্কিন সমকামী যুবতীকে

২৫ জানুয়ারি ২০২০

হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট

ভারত থেকে অধিক হারে অবৈধ অভিবাসীরা বাংলাদেশে ফিরছেন

২৫ জানুয়ারি ২০২০





বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



জেগে উঠেছে পুরনো প্রেম

পালিয়েছেন বরের পিতা ও কনের মা