চট্টগ্রামে বাড়ি হলেই অন্যত্র বদলি

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১১
চট্টগ্রামে বাড়ি হলেই অন্যত্র বদলি। চট্টগ্রামে মেট্রোপলিটন পুলিশে চাকরি করেন এমন ৭ পরিদর্শককে এমন বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে। গত ৭ই অক্টোবর থেকে ১০ই অক্টোবরের মধ্যে এ সংক্রান্ত তিনটি আদেশ জারি করা হয়েছে সিএমপির সদর দপ্তর থেকে। আদেশে বলা হয়, আগামী ২০শে অক্টোবরের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ না দিলে ২১শে অক্টোবর তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে ধরে নেয়া হবে। এছাড়া নগর পুলিশের প্রত্যেক বিভাগে বাপ দাদার বাড়ি চট্টগ্রামে এমন সদস্যদের খুঁজে বের করতে চিঠিতে বলা হয়েছে। সিএমপি সূত্র জানায়, ৭ই অক্টোবর জারি করা আদেশে সিএমপির ছয়জন ট্রাফিক পরিদর্শককে মহানগর থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। ১০ই অক্টোবর থানা পুলিশের ৭ জন পরিদর্শককে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বন্দর থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী ও চান্দগাঁও থানার ওসি মো. আবুল কালামও রয়েছেন।
এই দুইজন সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্ব পাওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ে বদলি হলেন। সুকান্তের বাড়ি রাউজান এবং আবুল কালামের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায়।
বদলি হওয়া অন্য পাঁচ পুলিশ পরিদর্শক হলেন, আতিক আহমেদ, ফজলুর করিম সেলিম, সাইফুল আলম চৌধুরী, মর্জিনা আকতার মর্জু ও আসাদ করিম চৌধুরী। ট্রাফিক বিভাগ থেকে যাদের বদলি করা হয়েছে তারা হলেন- শহর ও যানবাহন পুলিশ পরিদর্শক দেবব্রত কর, সিরাজ উদ-দৌলা, মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুছ, মোহাম্মদ সরওয়ারুজ্জামান, কানু চন্দ্র বিশ্বাস ও সুভাষ চন্দ্র দে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) শ্যামল কুমার নাথ জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের মৌখিক নির্দেশনায় নগর পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে আমি একটি চিঠি পাঠিয়েছি। চিঠিতে নিজ জেলা যাদের চট্টগ্রামে তাদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার নিজস্ব কোন সিদ্ধান্ত নয়। উপ-কমিশনার শ্যামল নাথ বলেন, শুধুমাত্র চট্টগ্রামের জন্য এ ধরনের আদেশ-বিষয়টি দেখতে অনেকটা বৈষম্যমূলক। ঢাকা জেলায় যাদের বাড়ি তাদের বেলায়ও একই নিয়ম হওয়া উচিত। একই ভাবে দেশের সব জেলার জন্য একই ধরনের নিয়ম হলেই কোন সমালোচনা উঠবেনা। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের সাথে কথা বলে ইতিমধ্যে আমরা একটি চিঠি পাঠিয়েছি।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সদস্য সংখ্যা সাত হাজারের মতো। এরমধ্যে প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্যের বাড়ি চট্টগ্রামে। তাদের বেশিরভাগই এসআই ও কনস্টেবল। আর কর্মকর্তা পর্যায়ে আছেন মাত্র ছয়জন। হঠাৎ করে এ ধরনের আদেশে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে নিন্মস্তরে যারা চাকরি করেন, তারা এই বদলিকে অন্যায্য দাবি করে বলেছেন।
তাদের মতে, ঢাকা মহানগরে চাকরি করা ৩০ হাজার পুলিশের বেশির ভাগেরই ঢাকায় বাড়ি আছে। তারা সেখানে চাকরি করতে পারলে চট্টগ্রামের পুলিশ সদস্যরা এখানে চাকরি করতে সমস্যা কোথায়? সূত্রমতে, কনস্টেবল, এএসআই ও এসআইয়ের মতো পদে চাকরি করার কারণে তাদের সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে কাটাতে হয়। দিন শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করাটাই তাদের জন্য একটু স্বস্তির। তাছাড়া তাদের বেতন ভাতা কম হওয়ায় চাকরি এবং পরিবার আলাদা হলে অনেকের জন্য তা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
একাধিক পুলিশ সদস্য দাবি করেন, সিএমপিতে চাকরি করা চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদস্যদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ কম। দুই একজন যদি দোষ করেও থাকেন তবে তাদের খুঁজে বের করে নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি কিংবা বদলি করা হোক। এভাবে ঢালাওভাবে বদলি করলে মানুষ ভিন্ন বার্তা পেতে পারে।
সূত্র আরো জানায়, ২০০৩ সালের ২৩শে জুলাই ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন চৌধুরী অপহরণ ও খুনের পর চট্টগ্রাম জেলায় বাড়ি অথচ চট্টগ্রাম মহানগরে চাকরি করেন এমন সব পুলিশ সদস্যকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের বাইরে বদলি করা হয়েছিল। তবে পুলিশ নয়, র‌্যাব-৭ শেষ পর্যন্ত জামাল উদ্দিন অপহরণের রহস্য উদঘাটন করে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) দায়িত্ব নেয়ার পর এক জেলা ও মহানগরে দীর্ঘদিন চাকরি করা পুলিশ সদস্যদের অন্যত্র বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিবর্তে সিএমপিতে কর্মরত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সদস্যদেরই বদলি করার নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। এক্ষেত্রে তাদের অপরাধ বা কাজের ক্ষেত্রে যোগ্যতাকে বিবেচনা না করে কেবল চট্টগ্রামে বাড়ি থাকাকেই বদলির কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এমন একটি চিঠি সিএমপির হেডকোয়াটার থেকে সব বিভাগে পাঠানো হয়েছে।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০১৯-১০-১৩ ২০:৪৯:১৫

চরিত্রই মানবের পবিত্র ভূষণ । কিন্তু সেই পবিত্র ভূষণ হারিয়ে ফেলেছে অধিকাংশ শিক্ষিত চাকরীজীবি বাঙ্গালী । তাই অপরাধ দমনে সরকারী সকল চেষ্টা বারবার হোঁচট খাচ্ছে।

Emon

২০১৯-১০-১৩ ১৫:২৪:৪৭

Right decision. It should be implement all over BD step by step.

মোঃ কামরুল হাসান

২০১৯-১০-১৩ ১১:৪৮:৩৭

বেশ সৃষ্টিশীল চিন্তা!!! কিন্তু মনে রাখতে হবে, "ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে"।

আপনার মতামত দিন

ফ্লোরিডায় নৌঘাঁটিতে হামলা, বন্দুকধারীসহ নিহত ৪

দূষণে বাড়ছে মৃত্যু সর্বাধিক ঝুঁকিতে শিশুরা

বিমর্ষ ওরা তিন জন

হাস্যোজ্জ্বল মেয়েটিকে মারলো কে?

‘বন্ধু ভারত যেন আতঙ্ক জাগানো কিছু না করে’

ভ্রাম্যমাণ হকার সিন্ডিকেট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই কোটিপতি পিয়ন গ্রেপ্তার

চলছে দাম বাড়ানোর ঘষামাজা

আওয়ামী লীগে নতুন হিসাব

নতুন জীবনে সৃজিত-মিথিলা

বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন: কাদের

বিএসএমএমইউ ভিসি আদালত অবমাননা করেছেন: ফখরুল

সোমবার লোকসভায় পেশ হবে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল

বিচারের মুখোমুখি সুচি, রয়টার্সের বিশ্লেষণ

মোবাইলফোনের একটি কলে ভেঙে যেতে পারে সুন্দর সম্পর্ক

বিদেশি ঋণ পরিশোধের শর্ত শিথিল