আবরার হত্যা

ট্রাকচালক পিতাও চাইলেন শামীমের শাস্তি

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

শেষের পাতা ১৩ অক্টোবর ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৯

বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার হওয়া মো. শামীম বিল্লাহ ঢাকায় টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। তার পেছনে ড্রাইভার পিতার কোনো টাকা খরচ করতে হতো না। গ্রামের খুবই মেধাবী সরল-সুবোধ বালকটিই যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ‘আবরার হত্যা মামলার আসামি’ একথা ভাবতেই শিউরে উঠছেন তার পিতা এবং শ্যামনগরের মানুষ।

গ্রামের ৬০ বছর বয়সের জিয়াদ আলী সানা ও আব্দুল হামিদ গাজী বলেন, নিরীহ প্রকৃতির শামীম তো কোনো ছাত্র রাজনীতি করতো না। এলাকায় কোনো অসাধু সঙ্গেও দেখা যায়নি তাকে। ওদের পরিবারটিও নিরীহ প্রকৃতির। কীভাবে এত বড় একটি নৃশংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়লো বুঝতে পারছি না। শুক্রবার বিকালে শ্যামনগর উপজেলার ভূরুলিয়া ইউনিয়নের দেউলিয়া গ্রামে তার দূরসম্পর্কের ফুফুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয় শামীম বিল্লাহ। শামীম সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রামের ট্রাকচালক আমিনুর রহমান ওরফে বাবলু সরদারের ছেলে ও বুয়েটের নেভাল অ্যান্ড আর্কিটেকচার বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র।
শামীম বিল্লাহ আবরার হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত ১৪ নম্বর আসামি। এ বিষয়ে শামীম বিল্লাহর পিতা বাবলু সরদার জানান, ১৯৯৮ সালে জন্ম নেয়া শামীম ২০১৫ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে ঢাকার সেন্ট জোসেফ-এ ভর্তি হয়।

সেখানে ২০১৭ সালে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে এইচএসসি পাস করে বুয়েটে ভর্তি হয়। এর আগে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি এবং পঞ্চম শ্রেণি সমাপনীতেও সেরা ফলাফল করেছিল। অভাবের সংসার হলেও তাকে লেখাপড়া করাতে আমার তেমন টাকা খরচ হয়নি। তিনি বলেন, ছেলে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে গরিব ও মেধাবী হিসাবে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। ঢাকায় একজন সচিবের বাড়িসহ দুই জায়গায় টিউশনি করে। সেখান থেকে যে টাকা ছেলে পায় তা নিজের খরচ চালিয়েও বাড়িতে পাঠায়। এরই মধ্যে শামীম ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ও এফজেট মোটরসাইকেল কিনেছে নিজের টাকায়। দাদি মমতাজ বেগম জানান, ঘটনার পরে গত বুধবার ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি শ্যামনগরে চলে আসে শামীম। এরপর আমার পরামর্শে শামীম দেউলদিয়া গ্রামের বসবাসকারী দূরসম্পর্কের ফুফুর বাড়ি গিয়ে ওঠে। এর একদিন পর শুক্রবার ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে যায়। শামীমের একমাত্র বোন শারমিন সুলতানা শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী। শামীমের মা সালিমা খাতুন বলেন, আমার ছেলে কারও সঙ্গে ঝগড়াও করেনি কোনোদিন। সবাই তাকে ভালো বলে। বাড়িতে আসলে এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যাপারে পরামর্শ দেয়। আমরা ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছি। কিন্তু এ কোন বিপদের মুখে পড়লো আমার ছেলেটি। বাবা বাবলু সরদার জানান, আমি ট্রাক চালাই। আমার ভাই লাভলু ঢাকা পরিবহনের চালক। আমার বাবা আতিয়ার রহমান একটি ইটভাটায় চাকরি করেন। এর মধ্য দিয়ে ছেলেটি লেখাপড়া শিখে বড় হচ্ছিল। কিন্তু মাঝখানে এ কী হলো। তিনি বলেন, একজন বাবা হিসেবে আমি চাই যারা আবরারকে হত্যা করেছে তারা যেন শাস্তি পায়। এমনকি আমার ছেলে দোষী হলে সেও শাস্তি পাক। কিন্তু নিরীহ নিরপরাধ কোনো ছেলে যেন কোনোভাবেই বিপদে না পড়ে।

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

আসামে কারফিউ শিথিল, নাগাল্যান্ডে ধর্মঘট

দ্বিতীয় দিনেও পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

কেরানীগঞ্জে আগুন

সাখাওয়াতের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সংগ্রাম সম্পাদক রিমান্ডে

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সিলেটে ফের গ্রেপ্তার দু’জন

বোরকা পরে চুরি করে বেড়ায় সীমা ও শামীমা

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯





আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



কড়া নিরাপত্তা, এজলাসে সিসি ক্যামেরা

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি কাল

সিলেটে ফের গ্রেপ্তার দু’জন

বোরকা পরে চুরি করে বেড়ায় সীমা ও শামীমা