বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৪৭
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুসরণের নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। বিচারিক কর্মঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি  কঠোরভাবে পরিহার করতে বলা হয়েছে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ দেয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে তা অসদাচারণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা-২০১৭ এর পাশাপাশি প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে। একইসঙ্গে, এই সাকুলারের নির্দেশনাবলী অনুসরণে কোনো সমস্যা বা অসুবিধা দেখা দিলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট -এর নজরে আনা যেতে পারে বলে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগে ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের মাত্রা অতীতের তুলনায় অনেক গুণ বেড়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন এবং অনুরূপ যেকোনো ডিভাইসের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তির তথ্য, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি আদান-প্রদান করা যায়। তবে অতিমাত্রায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ফলে এক ধরনের আসক্তি তৈরি হয়, যা ব্যক্তি জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সব সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা-২০১৬’ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কোনো নীতিমালা বা নির্দেশিকা গ্রহণ করা হয়নি। বর্ণিত অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর জুডিসিয়াল রিফর্মসের সুপারিশক্রমে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি অনুসরণীয় নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নির্দেশনায় যে ১১ দফা অবশ্যই বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাগণকে পরিহার করতে বলা হয়েছে, তা হলো- ১. জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনো প্রকার তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ২. কোনো সমপ্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে, এমন কোনও তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৩. রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৪. কোনো সমপ্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক বা হেয় প্রতিপন্নমূলক কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৫. কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে হেয়প্রতিপন্ন করে কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৬. লিঙ্গ বৈষম্যমূলক কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৭. জনমনে অসন্তোষ ও অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৮. কোনো মামলার বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ বা প্রচার। ৯. নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ বা প্রচার। ১০. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ছবি বা ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ ও প্রচার। ১১. অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয়, মানহানিকর এবং নৈতিকতা পরিপন্থী কোনো স্ট্যাটাস, পোস্ট, লিংক, ছবি ইত্যাদি অন্যজনকে সংযুক্তকরণ, আদান-প্রদান, প্রকাশ ও প্রচার।

এছাড়া যে ৮ দফা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে - ১. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিতব্য লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি নির্বাচন ও বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। ২. প্রকাশিত তথ্য ও উপাত্তের যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। ৩. ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য আদান-প্রদান, প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা এবং বিচারকসুলভ মনোভাব অবলম্বন করতে হবে। ৪. অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন বিষয়ে তথ্য, স্ট্যাটাস বা পোস্ট দেয়া যাবে না। ৫. বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য একটি পোর্টাল, গ্রুপ থাকতে পারে, যেখানে বিচারাধীন মামলার বিষয় এবং ব্যক্তিগত বিষয় ব্যতীত কেবল আইনগত বিষয়ে আলোচনা ও তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। ৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও বিচারকসুলভ আচরণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। ৭. তথ্য আদান-প্রদান ও বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিজ কর্মক্ষেত্রে মামলার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা মামলা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। ৮. বাস্তব ও স্বাভাবিক অবস্থায় সহকর্মীদের সাথে মিথস্ক্রিয়া সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি, করণীয় ও বর্জনীয় দিকসমূহের প্রতিফলন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিশ্চিত করতে হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মেনন ও তার স্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বললেন আলাল

ব্যাখা দিলেন রাশেদ খান মেনন

কারা ডিআইজি বজলুর রশীদ গ্রেপ্তার

উপাচার্য পদের মর্যাদা রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব

মাদকের বিরুদ্ধে শপথ করালেন আলোচিত বক্তা তাহেরী

খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

‘কমলেশ হত্যায় দায়ী বিজেপি নেতা’

মেনন সত্য কথা বলেছেন: ড.কামাল

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব

বৃটেনে ব্রেক্সিট বিরোধী ঐতিহাসিক বিক্ষোভ

ঢাবিতে ছাত্রদলের উপর ছাত্রলীগের হামলা

লোহাগড়ায় বোনের হাতে ভাই খুন

রাশেদ খান মেনন যা বলেছেন (ভিডিও)

হাইকোর্ট বিভাগে ৯ বিচারপতি নিয়োগ

রণক্ষেত্র ভোলা, পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ, নিহত ৪, শতাধিক আহত (ভিডিও)

এখন দেশে চলছে ভানুমতির খেল: রিজভী