ছাত্রদলের কাউন্সিলে স্থগিতাদেশ

নানা বিকল্প নিয়ে দিনভর আলোচনা

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৫৪
ছাত্রদলের কাউন্সিলে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে শুক্রবার দিনভর দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। বৈঠক হয়েছে আইনজীবীদের সঙ্গেও। আদালতের নির্দেশে শিগগিরই শোকজের জবাব দেবেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। ছাত্রদলের কাউন্সিলের বিষয়টি ছাত্রদলই দেখবে। এজন্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ ছাড়াই ছাত্রদলের কাউন্সিলের প্রস্তুতি চলবে। আইনানুগভাবে ছাত্রদলের কাউন্সিল সম্পন্ন করতে কোনো বাধা নেই বলে মনে করেন দলীয় আইনজীবীরা। এদিকে, সকাল থেকেই বিক্ষোভ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পল্টন এলাকায়।

ওদিকে সিনিয়র নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১০ নেতাকে শোকজ করার বিষয়ে জবাব দেয়া হবে।
উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে। শিগগিরই কাউন্সিল সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কাউন্সিলের দায়িত্ব পালন করবেন ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। গতকাল দুপুরে দলীয় আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকে ঢাকার চতুর্থ সহকারী জজ আদালতে দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে আলোচনা হয়। আইনজীবীরা জানান, ছাত্রদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন। বিএনপির যে ১০ নেতাকে শোকজ করা হয়েছে তারা এই কাউন্সিলের সম্পৃক্ত না থাকলে আইনি কোনো বাধা নেই।

শুক্রবার বিকাল ৪টায় ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে বৈঠকে বসেন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালযয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদলের কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাত্রদলই নেবে। ছাত্রদলের কাউন্সিলের বিষয়ে তারা আলোচনা করছে। এ সিদ্ধান্ত তাদের ব্যপার। এ বিষয়ে ছাত্রদলই সিদ্ধান্ত নেবে। এর সঙ্গে বিএনপি জড়িত না। আদালতেও তারা ফেস করবে। আদালতের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতৃবৃন্দকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে সঠিক সময়েই জবাব দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ছাত্রদলের কাউন্সিল স্থগিতের আদেশটি হঠাৎ করেই এসেছে। বিষয়টি সত্যিই রহস্যজনক। এতে পরিস্কার বুঝা যায় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ আছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা এটা করার জন্য ব্যবহার করছে আদালতকে। এটা কখনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভবিষ্যত রাজনীতিরর জন্য সুখকর হতে পারে না। যদি তারা মনে করে পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন তারা ক্ষমতায় থাকবে তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছে। আজকে সরকার যে একটা কালচার তৈরি করেছেন একটা রাষ্ট্রের জন্য এটা সত্যিই ভয়াবহ। আদালতকে দিয়ে তারা তত্ত্ববধায়ক সরকার বাতিল করেছে। পরে এই সরকার দেশটাকে একটা অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রেহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ছাত্রদলের প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বৈঠকটি বাতিল করা হয়।
আজ ১৪ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার কাউন্সিলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহ’র এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চতুর্থ সহকারী জজ নুসরাত জাহান বিথি এ আদেশ দেন।

এছাড়া ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বিষয়ে কেন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে না তা জানতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১০ নেতাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আদেশের কপি পৌঁছে দেয়া হয়। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন কাউন্সিল পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার রাতেই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি এ সময় অভিযোগ করে বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিলে আদালত যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন সেটা অযৌক্তিক। কোনো বিচার বিশ্লেষণ ও যুক্তিতর্ক ছাড়া ছাত্রদলের কাউন্সিল স্থগিতের আদেশ দেয়া গভীর চক্রান্তমূলক। সরকারের কারসাজিতেই এই আদেশ প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কাউন্সিলের ওপর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার রাতেই দলীয় কার্যালয়ে ভিড় করেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আমিনুর রহমান আমিনের নেতৃত্বে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী ফজলুর রহমান খোকন, মামুন খান,   সাধারণ সম্পাদক পার্থী   শাহনেওয়াজ, ও তানজিল হাসানের নেতৃত্বে পৃথক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে সম্মিলতভাবে আরেকটি মিছিল করেন ছাত্রদলের প্রার্থীরা। এছাড়া সভাপতি প্রার্থী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক পার্থী  ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দিনভর সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। সূত্রমতে, শিগগিরই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে দুই-তিন দিনের মধ্যে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

এসব বিষয়ে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল মানবজমিনকে বলেন, ছাত্রদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন। কাউন্সিল ছাত্রদল করবে। তাদের কাউন্সিল তারা কিভাবে করবে এটা তাদের ব্যাপার। আদালত যে শোকজ করেছেন এতে তাদের কাউন্সিলের কিছু যায় আসে না। শোকজ করা হয়েছে বিএনপির ১০ নেতাকে। এর জবাব বিএনপির ওই নেতৃবৃন্দ দিবেন বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর নির্দেশ

যুদ্ধবিরতির মার্কিন আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলেন এরদোগান

বিক্ষোভের মুখে হংকং পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে পারলেন না ক্যারি লাম

দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিরা

বিকালে ঐক্যফ্রন্টের জরুরি বৈঠক

ভাল রাঁধেন অভিজিত, খেটেছেন জেল

রাস্তায় সতর্ক হয়ে চলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

শহীদ আবরার হল!, খুনীদের নামে টয়লেটের লোকেশন

ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্ত থাকবে পাকিস্তান

বিহারে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে ডেঙ্গুজ্বর

আওয়ামী লীগ কর্মী হত্যায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

চিদাম্বরমকে জেলখানায় ২ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার

বৈশ্বিক ক্ষুধার সূচকে ভারতকে পিছনে ফেলেছে বাংলাদেশ

‘বিপদ আপদে বোঝা যায় সম্পর্কগুলো কতটা শক্ত আমাদের’

ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলা: মামলার প্রতিবেদন ২০শে নভেম্বর

টিনেজারের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের আশায়...