মংডু যেতে পারলেন না কূটনীতিকরা

দেশ বিদেশ

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১১
আয়োজন ছিল, কিন্তু বৈরি আবহাওয়া বাধা হয়ে দাঁড়ালো। মংডু যেতে পারলেন না ইয়াংগুনে থাকা বাংলাদেশহ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধি (রাষ্ট্রদূত ও সিনিয়র কূটনীতিক) এবং মিয়ানমারে দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতিসংঘের অধীন সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা। বাধ্য হয়ে তাদের সিত্তুয়েতেই কাটাতে হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, মিয়ানমার সরকারের আয়োজনে সিত্তুয়েতে কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরে যাওয়ার দাবি করা ক’জন রোহিঙ্গাকে বিদেশী রাষ্ট্রদূত এবং বিশ্ব সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে হাজির করা হয়। সঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বি কয়েকজন বাস্তুচ্যুত যারা সদ্য রাখাইনে ফিরেছেন বলে দাবি করছেন তাদেরও কূটনীতিকদের সামনে আনা হয়। রাষ্ট্রীয় ওই আয়োজনে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির দপ্তরের একজন উপমন্ত্রী কূটনীতিকদের ব্রিফ করেন। একই সঙ্গে উপস্থিত সদ্য প্রত্যাবাসিত হওয়ার দাবিদার রোহিঙ্গা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সাক্ষাৎকার গ্রহণের সূযোগ করে দেয়া হয়। সেখানে তাদের দিয়ে যেটা কূটনীতিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয় তা হলোÑ তারা আগাগোড়ায় আরসা দ্বারা নির্যাতিত। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তারা বাংলাদেশে গিয়েও আরসার হাত থেকে রেহাই পায়নি। কক্সবাজার ক্যাম্পে তাদের নিয়মিতভাবে ভয়ভীতি দেখানো হতো। অবশ্য মিয়ানমারের এমন দাবির বিষয়ে বরাবরই বাংলাদেশ তথা বিশ্বসম্প্রদায় সন্দিহান। কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সিত্তুয়ে পর্যন্ত পরিদর্শনের সূযোগ পাওয়া এবং স্টেট কাউন্সেলরের প্রতিনিধির ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী এ নিয়ে গণমাধ্যমে কোন প্রতিক্রিয়া দেখানো বা মন্তব্য করতে রাজী হন নি। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার নিজস্ব ঢংয়ে ‘অ্যাম্বাসেডরস ভিসিট রিটার্নিজ ইন রাখাইন’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করেছে। যা এরইমধ্যে ঢাকার দৃষ্টি আকৃষ্ট করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমটি লিখেছেÑ বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ এশিয়ার ৯ রাষ্ট্রের মিয়ানমার মিশন প্রধান, জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এবং ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধিরা ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর রাখাইন রাজ্য সফর করেন। ১০ই সেপ্টেম্বর তারা সাক্ষাৎ করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু নারী ও পুরুষের সঙ্গে, যারা সদ্য রাখাইনে ফিরেছেন মর্মে দাবি করছেন। ১১ই সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রদূত ও বিশ্ব সংস্থার প্রতিনিধিরা মুসলিম সম্প্রদায়ের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলেন, যারা নিজের ইচ্ছায় সদ্য রাখাইনে ফিরেছেন বলেও দাবি করেন। স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের উপ-মন্ত্রী উ খিন মাউং থিনের সঙ্গ এবং উপস্থিতিতে প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গারা কথা বলেন কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাটির খবর মতে, হিন্দু সম্প্রদায়ের ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি মুক্ত, বাধাহীন এবং খোলামেলা পরিবেশে কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা কূটনীতিকদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসারও জবাব দিয়েছে। সেখানে তারা স্মরণ করেছে, ২০১৭ সালের আগস্টে আরসার আক্রমণে তারা কিভাবে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। সেই ঘটনায় তাদের কত জীবন এবং সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা এবং ভারত সরকারের সহায়তায় কিভাবে ফিরেছে (রাখাইনে)! রিপোর্ট মতে, রাখাইনে ফেরা পর্যন্ত তারা না-কী আরসার হুমকির মধ্যে ছিল। পরবর্তীতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এখন তারা নিরাপদ বোধ করায় মংডুতে যাওয়ার এবং স্বাভাবিক জীবন শুরু করার আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেখানে তাদের এনভিসি কার্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকা মিয়ানমার সরকারের কর্মকর্তারা জানান, প্রত্যাবাসিত লোকজনকে পূনর্বাসনে যেসব বাড়ি তৈরি হয়েছে তাতে তাদের ফেরার প্রস্তুতির বিষয়েও ব্রিফ করা হয়েছে। তাদের জানানো হয়েছেÑ মংডুতে ফিরে যাওয়ার পর তারা দ্রুতই স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করতে পারবে। মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে রাখাইনে বাসযোগ্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। কূটনীতিকরা ১০ সদস্যের মুসলিম প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলেন, যারা স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরেছে। ক্যাম্পে স্বল্প সময়ের অবস্থানকালীন দুর্ভোগ এবং বল-প্রয়োগের ঘটনাগুলো শেয়ার করে তারা কূটনীতিকদের জানায়, ক্যাম্পে বর্বরতা, হুমকি, হত্যা, খাদ্যের সংকট এবং তাদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের পড়ালেখা ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত জটিলতায় তারা নিজস্ব ব্যবস্থায় রাখাইনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা রাখাইনে ফেরত আসার পর মিয়ানমার কতৃপক্ষ তাদের বিষয়ে নিশ্চিত হয় যে এরা তাদের পুরনো বাসিন্দা এবং সন্ত্রাসী কোন গোষ্ঠির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। ক্যাম্পে থাকাকালে তাদেরকে কিভাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটে আরসা হুমকি দিতো এবং তারা কতটা ভয়ের মধ্যে কাটিয়েছে তা-ও তুলে ধরে। তারা এ-ও বলে অনেকেই ফিরতে চায় কিন্তু আরসা তাদের ফিরতে দিচ্ছে না। তারা প্রতিনিয়ত আরসার হুমকির মধ্যে রয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মেডিকেল মিরাকল ঘটানো সেই দম্পতি আইসিইউতে

আপত্তিকর মন্তব্য করায় টিআইবিকে বেক্সিমকো’র চিঠি

বার্সার জয়ে ফাতির ইতিহাস

পুলিশকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বাসা চাপায় ছাত্রলীগের তিন নেতা নিহত

শোভন ও রাব্বানীকে আইনের আওতায় আনার দাবি বিএনপি নেতা সোহেলের

রাব্বানীকে জিএস পদ থেকে অপসারণের আল্টিমেটাম

মিরপুরে গার্মেন্টস কর্মীদের সড়ক অবরোধ

গডফাদাররা নিরাপদে

কুকুরের মৃত্যুতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর শোক, ফুলের মালা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক রোহিঙ্গা নিহত

আওয়ামী লীগ নেত্রী বলে কথা!

ভারতে সুপার ইমার্জেন্সি চলছে : মমতা

কাউকে যেন কোনো ধরণের হয়রানি না করা হয়- ডিএমপি কমিশনার

পাকিস্তানের প্রশংসা করলেন ভারতের রাজনীতিক শারদ পাওয়ার

শীর্ষ ২ টেলিকম কোম্পানিতে প্রশাসক বসাতে চায় বিটিআরসি