চিন্তার কোনো কারণ নেই

ষোলো আনা

সাওরাত হোসেন সোহেল | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:২৫
ঘর নেই, নেই থাকার জায়গা। সঙ্গী তাদের চোখের জল। বন্যা আর ভাঙনে দিশাহারা কুড়িগ্রামের চিলমারীর ভাঙনকবলিত এলাকার অসহায় পরিবারগুলো। এসেছিল বন্যা, সঙ্গে তীব্র ভাঙনে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম। কেড়ে নেয় শতশত পরিবারের শেষ সম্বল। থাকার স্থান। এখন নেমে গেছে বন্যার পানি। তবে অনেকেই ফিরতে পারেন নি ঘরে।
এই অসহায় মানুষগুলোর স্থান হয়েছে তাঁবুতে। সরকারের দেয়া এ তাঁবুগুলোই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।

তাঁবুতে বসবাসকারী অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মুদাফৎ কালিকাপুর এলাকার ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, কি আর কমু বাহে, বানের পানি ভেসে নিচে ঘর। আর ভাঙন কাড়ি নিচে থাকার জায়গা। এখন নাই ঘর, নাই থাকার ভিটা। তাই পড়ি আছি অন্যের জায়গাত আর থাকি তাঁবুর ভেতরত।

কিন্তু চিন্তা আছে তাদের মাঝে। ফেরত দিতে হবে এই তাঁবুগুলো। মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী হাসিনা বলেন, ঘর করার পয়সা নাই থাকার জায়গা নাই। সরকারি তাঁবুগুলোও ফেরত দেয়া লাগবে। তখন হামরা কোটে যামো। থাকার লাগবে খোলা আকাশের নিচোত। একই কথা জানান- রমনা খড়খড়িয়া এলাকার শহিদুল, আজিজুর, আহেকুলসহ অনেকে। ইতিমধ্যে স্থানীয় চেয়ারম্যান তা ফেরত দিতে বলেছেন। তবে অসহায় মানুষগুলো যতদিন অসহায় অবস্থায় থাকবেন ততদিন তারা এই তাঁবু ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যা ও ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে তাঁবু। চিলমারী উপজেলায় এখনো ঘরবাড়ি হারা নিঃস্ব অনেক পরিবার তাঁবুতে বসবাস করছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উপজেলায় ১৩০টি তাঁবুু বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৭০টি বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. কোহিনুর রহমান বলেন, বন্যা ও ভাঙন এলাকার মানুষের সুবিধার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁবু দেয়া হয়েছিল তা ফেরত যোগ্য। তবে যারা অসুবিধায় আছেন তারা যতদিন পর্যন্ত ঘর ও থাকার ব্যবস্থা করতে না পারেন তারা তা ব্যবহার করবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, যাদের থাকার স্থান নাই সরকার তাদের জন্য আশ্রয়ণ করছে এবং যাদের জায়গা আছে ঘর নাই সরকার তাদেরও ঘর করে দিচ্ছেন। এ ছাড়াও তাৎক্ষণিক সমস্যার জন্য তাঁবুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাই চিন্তার কোনো কারণ নাই। তিনি আরো জানান, যারা এখনো তাঁবুর উপর ভরসা করে আছেন তাদের থাকার ব্যবস্থা করাসহ ঘর দেয়া হবে।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

৮৮ পাউন্ডের লুলুলেমন, নির্মাতারা নির্যাতিত

সম্রাটের মুখে কুশীলবদের নাম

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে ফিফা প্রেসিডেন্ট

ফরিদপুরে মানবজমিন উধাও

সীমান্তে গোলাগুলি বিএসএফ সদস্যের নিহতের খবর ভারতীয় মিডিয়ায়

৩৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে সৌদি কোম্পানি

গ্রামীণফোন-রবিতে প্রশাসক নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন

বালিশকাণ্ডের তদন্তে দুদক

ব্রেক্সিট নিয়ে বৃটেন ইইউ সমঝোতা

মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েও নিরাপত্তাহীনতায়

ভুলে আসামি, ১৮ বছর পর খালাস পেলেন নাটোরের বাবলু শেখ

গ্রামীণফোনের কাছ থেকে ১২৫৮০ কোটি টাকা আদায়ের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

‘ফিরোজের কাছে ফিরে আসবো’

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই আবরার হত্যার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে

পদযাত্রায় বাধা, আমরণ অনশনে নন-এমপিও শিক্ষকরা