পবিত্র আশুরা আজ

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৬
‘নীল সিয়া আসমান, লালে লাল দুনিয়া/ আম্মাগো লাল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া/কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে/সে কাঁদনে আঁসু আনে সীমারের ছোরাতে।’ আজ  ১০ই মহররম। পবিত্র আশুরা। ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী একটি দিন। এদিনে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে পৃথিবীর নির্মমতম ঘটনার অবতারণা হয়। মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) মাত্র ৭২ জন সহযোগী নিয়ে ইয়াজিদের বিশাল বাহিনীর সঙ্গে জিহাদ করে শহীদ হন। তার আগে ইয়াজিদ বাহিনীর ঘাতকরা একে একে হত্যা করে ইমাম হোসেন (রা.)- এর স্ত্রী, পুত্র ও সব নিকটাত্মীয়কে। মুসলিম জাহানের তৎকালীন স্বঘোষিত খলিফা ইয়াজিদ দায়িত্ব তুলে দেয়ার কথা বলে কুফা নগরীতে আমন্ত্রণ জানায় হযরত ইমাম হোসেন (রা.)- কে। পথে কারবালার প্রান্তরে অবরুদ্ধ করা হয় তাদের। তৃষ্ণার্ত ইমাম হোসেন (রা.)-কে ফোরাত নদীর পানি পর্যন্ত পান করতে দেয়া হয়নি। তার সব সঙ্গী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হওয়ার পর নির্মমভাবে সীমারের হাতে শহীদ হন মহানবীর প্রিয় দৌহিত্র। এজিদ ঘোষিত পুরস্কারের লোভে সীমার এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটায়। কারবালার ঘটনা ছাড়া আরো অনেক কারণে ১০ই মহররম মুসলিম বিশ্বে তাৎপর্যমণ্ডিত। ইসলামের ইতিহাসে এদিনে অনেক ঘটনা ঘটেছিল। এদিনেই আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এদিনেই পৃথিবী ধ্বংস করবেন। এদিনে অনেক নবী-রাসুল জন্মগ্রহণ করেন। আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়েছিল এদিনে। এদিনই হজরত নুহ (আ.) ও তার সঙ্গীরা ভয়াবহ প্লাবন থেকে মুক্তি পান। হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পান। প্রায় ১৪০০ বছর ধরে সারা বিশ্বের মুসলমান ১০ই মহররমের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে রোজা রাখেন। দোয়া, মহররমের মর্সিয়া আর মাতমের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এদিনটি পালন করে থাকেন। এদিনটি তাই একদিকে মুসলমানদের জন্য শোকাবহ, অন্যদিকে তাৎপর্যমণ্ডিত। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল ও মাতম করে শোক প্রকাশ করেন শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, তাজিয়া মিছিল, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এদিকে, আশুরাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। তাজিয়া মিছিলে যারা অংশ নেবে তাদের মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। এছাড়া পুরো মিছিল ঘিরে রাখবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তাজিয়া মিছিল ও আশুরার কর্মসূচিতে দা, কাঁচি, ছুরি বা ধারালো কোনো অস্ত্র না নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া মিছিল শুরুর পর আর কাউকে মিছিলে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Ruhul Matin

২০১৯-০৯-১০ ১১:৪৩:০৭

u guys even don't know the source of "Ashura"

আপনার মতামত দিন

আপত্তিকর মন্তব্য করায় টিআইবিকে বেক্সিমকো’র চিঠি

বার্সার জয়ে ফাতির ইতিহাস

পুলিশকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বাসা চাপায় ছাত্রলীগের তিন নেতা নিহত

শোভন ও রাব্বানীকে আইনের আওতায় আনার দাবি বিএনপি নেতা সোহেলের

রাব্বানীকে জিএস পদ থেকে অপসারণের আল্টিমেটাম

মিরপুরে গার্মেন্টস কর্মীদের সড়ক অবরোধ

গডফাদাররা নিরাপদে

কুকুরের মৃত্যুতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর শোক, ফুলের মালা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক রোহিঙ্গা নিহত

আওয়ামী লীগ নেত্রী বলে কথা!

ভারতে সুপার ইমার্জেন্সি চলছে : মমতা

কাউকে যেন কোনো ধরণের হয়রানি না করা হয়- ডিএমপি কমিশনার

পাকিস্তানের প্রশংসা করলেন ভারতের রাজনীতিক শারদ পাওয়ার

শীর্ষ ২ টেলিকম কোম্পানিতে প্রশাসক বসাতে চায় বিটিআরসি

‘আয়া এসে রোগীর কাপড় খুলে নেয়’