ইরানে ২৮ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে চীন

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২১
ইরানের তেল ও গ্যাস শিল্পে ২৮ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য নীতিমালার জবাব দিতে চীন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণাটির বাস্তবায়ন হলে তা এশিয়ায় পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক অর্ডারের একটি প্রতিদ্বন্দ্বী অর্ডার গঠনের ভিত্তি গড়ে দেবে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাণিজ্য বিষয়ক সাময়িকী পেট্রোলিয়াম ইকোনমিস্টের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে লন্ডনের দ্য টাইমস।
খবরে বলা হয়, ২০১৬ সালে ইরানের সঙ্গে ৪০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের চুক্তি করে চীন। ওই চুক্তির অধীনেই এই বিনিয়োগ করা হবে। সমপ্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফের বেইজিং সফরে বিনিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানে ২৮ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি, দেশটির পরিবহন অবকাঠামোর উন্নয়নে আরো ১২ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে চীন। এ বিষয়ে জাভাদ জারিফ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন।
বিনিয়োগটি এমন কৌশলে করা হবে যাতে এর ফলে চীনের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ কম পড়ে। কৌশল অনুসারে, চীন এই বিনিয়োগে ডলার ব্যবহার করবে না। তার বদলে তাদের নিজস্ব মুদ্রা ইউয়ান এবং আফ্রিকার মতো অঞ্চলে বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অন্যান্য নরম মুদ্রা ব্যবহার করবে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ইরান থেকে তেল, গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ১২ শতাংশ কম দামে কিনতে পারবে চীন।
বিশেষ এক চুক্তির আওতায় ইরানে তাদের বিনিয়োগ রক্ষার স্বার্থে ৫ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করার অনুমোদন রয়েছে চীনের। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরসহ সরবরাহের লাইন রক্ষায় আরো সদস্য মোতায়েন করতে পারবে তারা। চুক্তিটির বাস্তবায়ন হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের আঘাত হবে। ট্রাম্প প্রশাসন আগ থেকেই ইরানবিরোধী পররাষ্ট্র নীতির চর্চা করে আসছে। এ ছাড়া, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কেরও তীব্র অবনতি হয়েছে দেশটির।
ইরানের সঙ্গে চীনের বিনিয়োগ চুক্তিটি এখনো জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়নি। খুব সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা পদক্ষেপ এড়াতে। তবে গত সপ্তাহে বেইজিংয়ের নেতাদের সঙ্গে জারিফের আলোচনার সময় চুক্তিটি ফাঁস হয়ে যায়। ইরানি গণমাধ্যম চুক্তিটির প্রচারণাও চালায়। বহু দশক ধরে দেশ দুটি নিজেদের কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। উভয়ই যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বিশ্ব অর্ডারের বিরোধী। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে একঘরে করে দিতে যুক্তরাষ্ট্র যেই পদক্ষেপ নিয়েছে তার সুযোগ নিচ্ছে চীন। তবে কেবল তাই নয়, একইসঙ্গে চীনের বাণিজ্যে ট্রাম্পের আঘাতের জবাবও এটি। উল্লেখ্য, ইরানের সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার কাছে নতি স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকী ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা না সরালে কোনো আলোচনায় বসতেও রাজি নন তিনি।

এর আগেও ইরানের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল চীন। তবে সমালোচকরা বলছেন, যে পরিমাণ বিনিয়োগের ঘোষণা চীন পূর্বে দিয়েছে, ইরানে ওই পরিমাণ অর্থ দৃশ্যমান নয়। যদিও ইরানে চীনের রাষ্ট্রীয় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি ও সিনোপেকের উপস্থিতি এখন ইরানে তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি চীনের বেল্ট এন্ড রোড প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি ইরানের সীমানায় রয়েছে। ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোয় ইতিমধ্যে প্রকল্পটির কাজ শুরু করে দিয়েছে চীন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতে দেহব্যবসায় বাধ্য করানো ৮ বাংলাদেশী যুবতীকে উদ্ধার

বাংলাদেশ সফরে ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান

বিশ্বনেতারা থাকলেও থাকছেন না ট্রাম্প

যোগদানের দ্বিতীয় দিনেই পদত্যাগ করলেন ইবি’র প্রক্টর

‘কাজটি করতে গিয়ে নিজেই অবাক হয়েছি’

বাড়ির কাজ বন্ধ রাখতে ক্রসফায়ারের হুমকি!

ডেঙ্গু: এবার ‘শক সিন্ড্রোমে’ মৃত্যু বেশি

বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা

অভিযান ইতিবাচক, এতদিন হয়নি কেন?

শামীম ঘুষ দিতো ডলারে

মতিঝিল যেন ক্যাসিনো পল্লী

২ কর্মকর্তা লাপাত্তা

খালেদের সহযোগী ও অর্থের সন্ধানে র‌্যাব

সমাধান সূত্র বের হবে আশাবাদী বৃটেন

বশেমুরবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত

বগুড়ায় ক্যাসিনোর আদলে জুয়ার আসর