খুলনায় থানা হাজতে গণধর্ষণ

ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ৯ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১৮
খুলনা জিআরপি থানা হাজতে নির্যাতন ও গণধর্ষণের অভিযোগ তোলা গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তাদের অব্যাহত হুমকি দেয়া হচ্ছে। বুধবার তারা এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পুলিশের দেয়া মাদক মামলায় কারাগারে থাকা ওই নারীর জামিন আবেদনের প্রস্তুতি নিয়েছেন আইনজীবীরা। এদিকে ফরেনসিক প্রতিবেদনে বিলম্বের কারণে মানবাধিকারকর্মীরা গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ এনে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পরিকল্পনা করছেন।
জিআরপি থানায় গিয়ে দেখা যায়, বুধবার তদন্ত কমিটি পুলিশ সদস্যদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ সময় পুলিশ সুপার (পাকশী-রেলওয়ে জেলা) মো. নজরুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানার হাজতখানাসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের পর থানার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেকেন্ড অফিসার এসআই অসীম কুমার দাসকে।
নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বড় বোন বলেন, মোবাইল ফোনে তাদের নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তদন্ত কমিটির সঙ্গে দেখা করে তারা বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তি হবে বলে তদন্ত কমিটি তাদের আশ্বস্ত করেছে।
তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে যখন আমার বোনের মেডিকেল পরীক্ষা হয় সেখানেও ওই ওসি (ওসমান) উপস্থিত ছিলেন। আমার বোনের বিরুদ্ধে সাজানো মাদক মামলার দারোগা গৌতম কুমারের সঙ্গে তার সারাক্ষণ যোগাযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা সুবিচার কীভাবে পাবো জানি না।’
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ধর্ষণের বিষয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না, এ কারণে আমরা মাদকের মিথ্যা মামলায় নির্যাতিতা ওই নারীর জামিনের আবেদন করছি। পাশাপাশি দোষী পুলিশের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মামলার আবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।’
ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা বুধবার ভিকটিমের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। বৃহস্পতিবার আরো বিস্তারিত কথা বলেছি। ইতিমধ্যে আমরা ওসি ও এক এসআইকে ক্লোজ করেছি। এখন কারা হুমকি দিচ্ছে, তারা পুলিশের লোক নাকি বাইরের, তা জানার চেষ্টা করবো।’
উল্লেখ্য, গত ২রা আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃহবধূকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে আটক করে। পরদিন শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়। ৪ঠা আগস্ট আদালতে জামিন শুনানিকালে বিচারককে ওই নারী জানান, জিআরপি থানায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি। থানা হাজতে ওসি ওসমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। এরপর আদালতের নির্দেশে ৫ই আগস্ট তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাকশী-রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন- কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ. ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও বড় জয় কিশোরদের

রাখাইনে নির্যাতন অব্যাহত, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান

এ কেমন শত্রুতা!

মওদুদের রিভিউ খারিজ, মামলা চলবে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যের কারাদণ্ড

মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

‘মিয়ানমারের অভিযোগ হাস্যকর’

রিয়ালের ড্রয়ে হতাশ জিদান

মির্জাপুরে গুলি করে ২৬ লাখ টাকা ছিনতাই

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু

সাবেক আইজি প্রিজনস সৈয়দ ইফতেখারকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

মোদির সামনে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করবেন গুতেরাঁ

ওএসডি হলেন জামালপুরের সেই ডিসি

জেলখানায় সবজি চাষ করেন সেই ধর্মগুরু

ঢামেকে আরও এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু