টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে অন্তকোন্দলে জাবি ছাত্রলীগ

শিক্ষাঙ্গন

শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন/জাবি প্রতিনিধি | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৫২
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষনেতারা। অন্যদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে অছাত্রদের নেতৃত্বে স্থবির হয়ে পড়েছে শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম। কেন্দ্র ঘোষিত কিছু কর্মসূচিগুলোতে কদাচিৎ তৎপরতা দেখা গেলেও তাতে উপস্থিতির সংখ্যা নগন্য। সাংগঠনিক কর্মসূচির চেয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারই যেন নেতৃত্বের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে সক্রিয় শাখা ছাত্রলীগের অন্তত তিনটি গ্রুপ। তিনটি গ্রুপের মধ্যে একটি শাখা সভাপতি জুয়েল রানার, একটি সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের ও অপরটি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের। মূলত সাদ্দামের  গ্রুপটি  নিয়োগ বানিজ্যের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় সম্পাদক গ্রুপ থেকে বের হয়ে আসা উপগ্রুপ।

এই টেন্ডারের টাকা ভাগাভাগি নিশ্চিন্ত করতে ১২জুলাই দিবাগত রাতে শাখা ছাত্রলীগের চার নেতাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বিরুদ্ধে। চারজন নেতা হলেন সহসভাপতি হামজা রহমান অন্তর, আলী হাসান মর্তুজা রিফাত, মিনহাজুল আবেদীন ও নাটক ও নাট্য বিষয়ক সম্পাদক রতন বিশ্বাস। এদিকে ছাত্রলীগের একটি সূত্র বলছে ছাত্রলীগ সভাপতি ঐদিন রাতে শাখা ছাত্রলীগের ২জন নেতার সাথে মাঝরাতে বটতলায় টেন্ডারের ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠক করেন।

হল থেকে বের করা নিয়ে সহসভাপতি আলী হাসান মর্তুজা বলেন, ‘ছাত্রলীগ টেন্ডারের টাকার ভাগ নেবে এটা ওপেন সিক্রেট। আমরা সিনিয়ররা থাকলে ভাগ-ভাটোয়ারায় সমস্যা হবে এমন আশঙ্কায় আমাদের হল থেকে বের করে দেয় জুয়েল রানা। যারা যারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজনীতি করে তাদের সমস্যায় ফেলতে চাচ্ছেন তিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জুয়েল আমাকে ফোন করে থ্রেট করেছে। ক্যাম্পাসে ঢুকলে মারধরের হুমকিও দিয়েছে। টাকা ভাগাভাগি হয়ে গেলে হয়তো সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’ অন্যদিকে এই ব্যাপারে ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে চায়নি প্রতিবেদকের কাছে।

এছাড়া যারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজনীতি করে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হেনস্তার অভিযোগ আছে জুয়েল রানার বিরুদ্ধে। ছাত্রলীগের একটি অংশের দাবি, ‘এ বছরই জাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো থাকায় জুয়েল তাদের নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।’

এসব অভিযোগের ব্যাপারে সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘কাউকে হল থেকে বের করা হয়েছে কিনা জানি না। তবে রতন পরীক্ষার কারণে হলের বাহিরে আছে।’ টেন্ডার প্রক্রিয়া জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে বলেন, ‘এটা বলবেই। এখন ক্যাম্পাসে একটা গাছের পাতা পড়লেও সেখানে টেন্ডারের টাকা ভাগাভাগির গন্ধ খোঁজা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কোন কারণ নেই। কেন্দ্রের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। আমরা কেন্দ্রের পরামর্শ অনুযায়ীই কাজ করছি।’

ছাত্রলীগ সাংগঠনিক কাজে হয়ে পড়েছে নিষ্ক্রিয় ঃ
টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত ছাত্রলীগ সাংগঠনিক কাজে নিষ্ক্রিয় পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯মে বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘরোয়া ইফতারের মাধ্যমে দায়সারা কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগ। এছাড়া কেন্দ্রঘোষিত বিভিন্ন আনন্দ মিছিল করলেও তাতে উপস্থিত হয় হাতে গোনা কয়েকজন নেতাকর্মী।

১২ জুন প্রধানমন্ত্রীর কারামুক্তি দিবস, ১৪ জুন বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল। তবে মিছিলে ছিলেন তার বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূলত নিয়োগ বানিজ্যের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সাবেক সম্পাদক গ্রুপের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে কোণঠাসা আবু সুফিয়ান চঞ্চল। আবার গত মার্চ মাসে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ নামে রচনা প্রতিযোগিতা কর্মসূচি ঘোষণা করলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে হল ইউনিটে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও এবছর তা অনেক হলে ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, সম্পাদকের  আচার-ব্যবহার ও কর্মকা- ন্যক্কারজনক। তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অনিয়মিত। আর তিনি কয়টি প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকেন তার চেয়ে আমরা বেশি প্রোগ্রাম করেছি।’ উল্লেখ্য তারেক হাসান শুরুতে সম্পাদক গ্রুপের রাজনীতি করলেও পরে বিদ্রোহী গ্রুপে যোগ দেয়। তবে তাদের এসব অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে দেখছেন শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুুুফিয়ান চঞ্চল। তিনি বলেন, ‘সাংগঠনিক কাজে অনীহার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক। জাবি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সদা তৎপর।’

অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসা গ্রুপটির বিরুদ্ধে তাকে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কাজে অসহযোগিতা করার অভিযোগ আছে। অভিযোগ নিয়ে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘চঞ্চল মূলত মাদক ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতো। যেটা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক হিসেবে মানানসই নয়। এ বিষয়ে আমরা তাকে সতর্ক করায় তার সঙ্গে আমাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।’

সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অনীহা দেখা গেলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শীর্ষ নেতাদের শোডাউন দিতে দেখা গেছে দিনের পর দিন। মেগাপ্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের হল নির্মাণের টেন্ডারের শিডিউল জমা দিয়ে ফেরার পথে গত মে মাসে ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানী ও মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী পরিচয় দিয়ে ২০-৩০জন যুবক শিডিউল ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া সভাপতি নিজেই ‘মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে শিডিউল নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘আমাদের ধারাবাহিক নাটকে এখন বৈচিত্র নেই’

প্রত্যাবাসন চেষ্টা ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশকেই দুষছে মিয়ানমার

মোজাফফর আহমদ আর নেই

বিরোধী নেতার পদ নিয়ে জাপায় চাপান-উতোর

পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ভারতকে ফ্রান্সের চাপ

তবুও ভালো নেই পুঁজিবাজার

ছাত্রদলের কাউন্সিল বেড়েছে তৃণমূলের কদর

রাঙ্গামাটিতে সেনা বাহিনীর অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত, বিক্ষোভ, ভাঙচুর

ডেঙ্গু নিয়ে এপর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ৬১,০০০

একই পরিবারের সবাই ডেঙ্গু রোগী

ভারত-পাকিস্তানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত ট্রাম্প

মর্গ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

খেলাপি ঋণের নতুন রেকর্ড

হঠাৎ বেড়েছে পিয়াজের দাম, স্বস্তি নেই সবজিতেও

সিলেটে কিং রতনের ‘ইয়াবাকন্যা’ নূপুর গ্রেপ্তার