নিরাপত্তা: ব্যক্তিগত তথ্য দেননি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

প্রথম পাতা

কাজী সোহাগ | ১৬ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২৪
নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদ সচিবালয়ের ১২শ কর্মকর্তা কর্মচারীকে ব্যক্তিগত তথ্য জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হলেও এতে সাড়া মেলেনি। নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য সময় বেঁধে দেয়া হলেও তা কেউই মানেননি। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে নতুন করে আর কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এ ধরনের ঘটনা সংসদ সচিবালয়ের ইতিহাসে বিরল বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানিয়েছেন, একক উদ্যোগে ও অতি উৎসাহে নিরাপত্তার নামে কর্মকর্তা কর্মচারীদের হয়রানি করার সুযোগ থাকায় ওই আদেশ উপেক্ষা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষও তাদের ভূল বুঝতে পেরেছেন। এজন্য তারা নির্দেশ অমান্য করার পরও চুপ করে আছেন। কোন ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।
তবে এ ধরনের উদাহরণ ভবিষ্যতের জন্য খারাপ নিদর্শন হয়ে থাকবে বলে জানান তারা। গত ২১শে মার্চ সার্জেন্ট এ্যাট আর্মস কমডোর মোস্তাক আহম্মেদ স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে ৩৬ ধরনের তথ্য চাওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ১১ ধরনের তথ্য, পিতা-মাতা-সংক্রান্ত ১২ ধরনের তথ্য, ভাই-বোন-সংক্রান্ত  চার ধরনের তথ্য, বিয়ে-সংক্রান্ত পাঁচ ধরনের তথ্য এবং সন্তান-সংক্রান্ত চার ধরনের তথ্য। ১৪ এপ্রিলের মধ্যে এসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়। এরইমধ্যে ওই সময়সীমা শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত চাকরিতে নিয়োগ দেয়ার আগে ও পদোন্নতির সময় এ ধরনের তদন্ত হয়। কেউ সন্দেহজনক কাজ করলেও তদন্ত হতে পারে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আছেন তাদের বিষয়েও সন্দেহজনক কিছু হলে তদন্ত হতে পারে। কিন্তু সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস অযথা তাদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ওই সময়ই ক্ষোভ জানান সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমদ খানের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তারা এ ধরনের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি তদন্তের জন্য তৈরি যে ফরম দেয়া হয়েছে তাতে শর্ত শিথিলের দাবি জানান। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, এ ধরণের নির্দেশ আসলে মানা যায় না। তাছাড়া নির্দেশ জারির একটি নির্দিষ্ট উপায় আছে, নিয়ম আছে। যিনি নির্দেশ জারি করেছেন তিনিই সেসব মানেননি। মানবজমিনকে তারা বলেন, নিরাপত্তার নামে আমাদের ওপর গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  সেখানে অনেক ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। আগে মূলত পুলিশি তদন্ত করা হতো। এবার করা হচ্ছে গোয়েন্দা তদন্ত।
উল্লেখ্য, সংসদ সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছেন প্রায় ২৩০ জন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্য আছেন ১১৫ জন। আর সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী আছেন ১১৫ জনের মতো। সার্জেন্ট এ্যাট আর্মস তাদের প্রধান। সাধারণত নৌবাহিনীর কমডোর পর্যায়ের কর্মকর্তা ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শ্রীলঙ্কায় যাচ্ছেন না মাশরাফি

পানিবন্দি মানুষ মানবেতর জীবন

‘তুইতোকারিকে’ কেন্দ্র করে চার খুন

ঢাকায় বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয় কাবু মধ্যবিত্ত

আদালতে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ডেঙ্গু রোগীদের ভিড়

ভয়ঙ্কর মাদক আইস ছড়িয়ে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক চক্র

দুই মামলা, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ পুলিশের

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের ছুটি বাতিল

দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখব- ওবায়দুল কাদের

সিলেটে ধর্ষিতার স্বামীর ফরিয়াদ

কাঁচাবাজারে বন্যার প্রভাব

কিশোর গ্যাংয়ের অন্তর্দ্বন্দ্বে খুন

পাকুন্দিয়ায় নিহত স্কুলছাত্রীর ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত

টিআইবি’র উদ্বেগ প্রত্যাহারের আহ্বান

ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল সিলেটে