যে কারণে আলোচনায় সিলেটে হাবিব-কালাম

বাংলারজমিন

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ২২ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৫৩
নানা কারণে সিলেটে আলোচিত চেয়ারম্যান হাবিব হোসেন ও আবুল কালাম। সিলেট নগরী ঘেঁষা দুটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তারা। নিজ নিজ এলাকায় আছে দাপটও। দক্ষিণ সুরমার দুই অংশের নিয়ন্ত্রণও অনেকটা তাদের দুই জনের হাতে। পরিবহন ব্যবসাসহ নানা সেক্টরেও তারা দাপটের সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই দুই চেয়ারম্যান এবার আলোচনায় ভিন্নভাবে এসেছেন। তারা দুই জনই ১০ বছরের অপেক্ষার পর এবার বিএনপি ছেড়ে পাড়ি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগে। তাদের ঘিরে রাজনীতির অন্দরমহলে দেখা দিয়েছে নানা রহস্য।
নেতারা তাদের টেনে দলে আনলেও তৃণমূল এ ব্যাপারে মুখবন্ধ করে রেখেছে। তবে, সিলেটের এই দলবদলের আলোচনায় গতকাল বিএনপির তরফ থেকে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, হাবিব হোসেন সিলেট বিএনপির কেউ না। আর আবুল কালামকে ইতিমধ্যে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
সিলেট বিএনপির এক সময়ের পরিচিত মুখ ছিলেন বরইকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ হাবিব হোসেন। সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় থানা বিএনপিকেও তিনি দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই হাবিব হোসেন এবার পাড়ি জমালেন আওয়ামী লীগে। সিলেট সিটি করপোরেশনের পাশ ঘেঁষা ইউনিয়ন বরইকান্দি এলাকাও সিলেটে বহুল পরিচিত। ওই এলাকার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হওয়ায় তার দাপট যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে পেশি শক্তিও। নিজ বলয়েরও রয়েছে হাজারো মানুষ। হাবিব হোসেন যেদিকে ঝুঁকেন তারাও সেই দিকে হেলে পড়েন। এ কারণে ইউনিয়ন নির্বাচনে তিনি নিজের অবস্থান ধরে রাখছেন বিগত কয়েক বছর ধরে। পাশাপাশি তিনি পরিবহন মালিক সমিতিরও শীর্ষ নেতা। দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবসায় তার আধিপত্য রয়েছে বিশাল।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের যোগ দিলেন হাবিব হোসেন চেয়ারম্যান। তিনি বিএনপির পদবিধারী কেউ না। এরপরও সাবেক নেতা হওয়ার কারণে তাকে ঘিরেই আবর্তিত হতো সিলেট বিএনপির কার্যক্রম। গত শুক্রবার নিজ এলাকায় তিন গরু দিয়ে মেজবান করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি যোগ দেন। এ অনুষ্ঠানে সিলেট আওয়ামী লীগেরও সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। হাবিব হোসেনের আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার বিষয়টি সিলেটজুড়ে বেশ আলোচিত হয়েছে। এলাকায় তাকে নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। বিএনপির যুগে দাপট খাটানো নেতা এখন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে আবারো দাপট দেখাচ্ছেন।
হাবিব হোসেনের যোগদান অনুষ্ঠানের আলোচনার ইতি ঘটতে না ঘটতেই সিলেটে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আরেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম। তিনিও দাপটবাজ চেয়ারম্যান। নানা কারণে বিভিন্ন সময় তিনি আলোচনায় এসেছেন সিলেটে। সিটি করপোরেশনের লাগোয়া কুছাই ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের চেয়ারম্যান আবুল কালাম নিজেও একজন পরিবহন ব্যবসায়ী। সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েছে তার একচ্ছত্র আধিপত্য। পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা তার পক্ষে থাকায় কখনোই বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ আবুল কালামের হাত থেকে ফস্কে যায়নি। আবুল কালাম চেয়ারম্যান সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা। এর আগে তিনি বিএনপির নানা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপি ঘরানার প্রার্থী হয়ে তিনি বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবং জয়লাভও করেন।
আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন আবুল কালাম চেয়ারম্যান। সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি যোগদান করবেন। আবুল কালাম চেয়ারম্যান গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘আমার সঙ্গে ২-৩ হাজার মানুষ রয়েছে। আমি যেদিকে যাবো তারাও সেদিকে যাবেন। সুতরাং আমরা সবাই আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের জনগণের কথা চিন্তা করেই আমি আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছি। সরকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অন্য দলের হলে এলাকার উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ পাওয়া যায় না। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই আমি দলবদল করছি।’
এদিকে, দলবদলকারী দুই নেতাকে নিয়ে গতকাল মুখ খুলেছে সিলেট জেলা বিএনপি। সিলেট জেলা বিএনপির সিদ্ধান্তক্রমে জেলা দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. ফখরুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও কুছাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালামকে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং দলের আদর্শ পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সবপদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, একই সঙ্গে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী বরইকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিব হোসেন সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সভায় নিজেকে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিচয় দেয়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। হাবিব চেয়ারম্যান ১৫-২০ বছর আগে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘদিন থেকে তিনি দলীয় কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও তাকে দলীয় কোনো নেতৃত্ব স্থানীয় পদের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তাই দলীয় পদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য আদর্শ ত্যাগকারী হাবিব চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।’



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় শেখ সেলিমের নাতি নিহত

অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন তামিল অভিনেত্রী রাধিকা

ঐক্যের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

শ্রীলংকা হামলায় শেখ সেলিমের জামাতা আহত, নাতি নিখোঁজ, দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সোম ও মঙ্গলবার শ্রীলংকায় সরকারি ছুটি

এক হামলাকারী আজম ছিল ব্রেকফাস্ট বুফের লাইনে

শ্রীলংকা হামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ৭

মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর খবর নিয়ে বিভ্রান্তি

শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার

শ্রীলঙ্কার সংকটে পাকিস্তান পাশে আছে: ইমরান খান

শ্রীলঙ্কায় নতুন করে আরেক স্থানে বিস্ফোরণ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬০

পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে ভারত

কুলিয়ারচরে মোটরসাইকেল-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ১

শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় দুই বাংলাদেশী নিখোঁজ

হেল্পলাইন চালু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস

১০ দিন আগে সতর্ক করেছিলেন লঙ্কান পুলিশ প্রধান