একই কাজ করে ভিয়েতনামের শ্রমিক পান দ্বিগুণ মজুরি

ফেসবুক ডায়েরি

ফিরোজ আহমেদ | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার
হুবহু একই কাজ করে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিক যা মজুরি পান, ভিয়েতনামী একজন শ্রমিক পান তার দ্বিগুনের একটু বেশি। সঙ্গে ভিয়েতনামী শ্রমিক পান সন্তানের জন্য মান সম্পন্ন শিক্ষার নিশ্চয়তা। চিকিৎসা নিয়ে তাকে ভাবতে হয় না,আবাসন-পানি এগুলোর বন্দোবস্ত বাংলাদেশের বহু মধ্যবিত্তের চেয়ে ভালো। এরপরও সেখানে কারখানা লাভ করে। লোকসানে চলে না। কয়েকদিন পরপর শ্রমিকদের ঠকিয়ে কয়েক মাসের বেতন বন্ধ করে নতুন নামে কারখানা খোলার ও আবারও সরকারী ভর্তুকি খাবার কাহিনীও সেখানে সম্ভবত প্রায় নেই।
মুনাফা ও বেতন বাবদ বাংলাদেশের মালিকদের লাভ আসলে ঠিক কতো, সেটার একটা পরিস্কার ধারণা তুলে না ধরা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মজুরি বাড়লে করখানা বন্ধ হবে, এই গালগল্পে বিশ্বাস করার কোন কারণ দেখি না।
এবং মনে রাখবেন, পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থই জাতিয় স্বার্থ। তাদের মজুরি যখন ৫৬০০ টাকা হয়েছিল, তখনও মালিকরা বলেছিল এই মজুরিতে কারখানা টিকবে না। বাস্তবতা হলো, পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, ছোট-মাঝারি কারখানা বন্ধ করে আরও বড় কারখানা হয়েছে।
কিন্তু ৫৬০০ টাকা যখন শ্রমিক মজুরি পেয়েছিল, তার সুফল গোটা দেশ ভোগ করেছে। গোটা নুডলস শিল্পের প্রধান ভোক্তা পোশাক শ্রমিক, মুরগি আর মৎস্য চাষেরও। তাদের চাহিদা মেটাতে দেশের মাঝে গড়ে উঠেছে বিশাল অভ্যন্তরীণ পোশাক শিল্প, প্রধানত কেরানিগঞ্জকে কেন্দ্র করে।
আজকে বাংলাদেশে চাকরির যে হাহাকার, তার কারণাটা একটু গভীরে খতিয়ে দেখতে হবে। সেদিনের ৫৬০০ টাকায় পোশাক শ্রমিকদের আর চলে না, সব কিছুর দাম তিনগুণ বেড়ছে। শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে না, এটাই দেশের সামগ্রিক বিনিয়োকে স্থবির করায় অন্যতম ভূমিকা রাখছে। ঘুষ দিয়ে হলেও চাকরির জন্য উন্মত্ত তরুণদের নিন্দা করার আগে তাই দেখা দরকার, কীভাবে পোশাক শ্রমিক এবং কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতাহীনতা বিনিয়োগের পথ বন্ধ করে একটা দীর্ঘস্থায়ী অচলাবন্ধার মাঝে আমাদের ফেলছে। কম পুঁজির তরুণ তাই সব কিছু বন্ধক দিয়ে মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে চায় শ্রমিক হিসেবে, বেশি পুঁজির মালিক ইতিমধ্যেই বড় অংশ সরিয়ে ফেলেছে কানাডা কিংবা সিঙ্গাপুরে। ভিয়েতনামের শ্রমিকও কোন আদর্শ দশায় নেই। কিন্তু ১৯৭১ সালে আমাদের তুলনায় বহু গুণ ক্ষতবিক্ষত, পশ্চাৎপদ ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করলে আমরা কত পিছিয়ে পড়ছি, তা বোঝা যায়। পোশাক শ্রমিকদের জন্য সকরারের ঘোষিত ৮ হাজার টাকা মজুরি প্রত্যাখ্যান করছি। পরিষ্কার করে বলা দরকার: পোশাক শ্রমিকের স্বার্থ অন্যতম জাতীয় স্বার্থ। একটা গোটা শিল্পের সব মুনাফা মালিকরা নিয়ে গেলে সেই দেশ উৎপাদন-ক্রয়-ভোগ-বিনিয়োগ-সংস্কৃতি সবকিছুতে মরুভূমিতুল্য হয়ে পড়ে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Shahadat ullah

২০১৮-০৯-১৫ ০০:২২:৩০

I am 100% agreed with the writer.

আপনার মতামত দিন

‘আমাদের ধারাবাহিক নাটকে এখন বৈচিত্র নেই’

প্রত্যাবাসন চেষ্টা ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশকেই দুষছে মিয়ানমার

মোজাফফর আহমদ আর নেই

বিরোধী নেতার পদ নিয়ে জাপায় চাপান-উতোর

পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ভারতকে ফ্রান্সের চাপ

তবুও ভালো নেই পুঁজিবাজার

ছাত্রদলের কাউন্সিল বেড়েছে তৃণমূলের কদর

রাঙ্গামাটিতে সেনা বাহিনীর অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত, বিক্ষোভ, ভাঙচুর

ডেঙ্গু নিয়ে এপর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ৬১,০০০

একই পরিবারের সবাই ডেঙ্গু রোগী

ভারত-পাকিস্তানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত ট্রাম্প

মর্গ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

খেলাপি ঋণের নতুন রেকর্ড

হঠাৎ বেড়েছে পিয়াজের দাম, স্বস্তি নেই সবজিতেও

সিলেটে কিং রতনের ‘ইয়াবাকন্যা’ নূপুর গ্রেপ্তার