কোনো দেশের সঙ্গে মিলছে না বাংলাদেশের কোটা পদ্ধতি

প্রথম পাতা

দীন ইসলাম | ২০ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৩০
দেশ-বিদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংক্রান্ত তথ্য ও প্রতিবেদন সংগ্রহ প্রায় শেষ করে এনেছে কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা/ সংস্কার/বাতিল সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এগুলো পর্যালোচনা করে কমিটি দেখেছে, বাংলাদেশের মতো এত বেশি শতাংশ কোটা পদ্ধতি কোনো দেশেই নেই। বিভিন্ন দেশে কোটা পদ্ধতি সমাজে পিছিয়ে পড়া বিশেষ কোনো জনগোষ্ঠীর জন্য চালু রয়েছে। এটা বাংলাদেশের মতো দীর্ঘ মেয়াদে কোনো দেশে চালু নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা , নারী, জেলা, উপজাতি ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫৬ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রয়েছে। ভারতের কোটা পদ্ধতির তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে, প্রতিবেশী এ দেশটির সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা রয়েছে। কোটা চালুর পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সুস্পষ্ট রায় দেয় যে, এই কোটা পদ্ধতি পাঁচ বছরের বেশি রাখা যাবে না। পরে ভারতের সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থার সময়সীমা বাড়ানো হয়।
কিন্তু ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পরে আরো জানায়, কোটা ৫০ শতাংশের নিচে রাখতে হবে। ভারতের সব প্রদেশেই এখন সেটা কার্যকর রয়েছে। এছাড়া ভারতে কোটার জন্য রয়েছে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা। একটি পরিবারের মাত্র একজনই কোটাসুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। যদি কেউ উচ্চশিক্ষার জন্য কোটা গ্রহণ করেন তবে তিনি চাকরিতে কোটা সুবিধা পাবেন না। মালয়েশিয়াতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরির ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি চালু রয়েছে। তাদের কোটা পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো- সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমতা এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনা। এক্ষেত্রে তারা কিছুটা সফলতার মুখও দেখেছে। তাদের কোটা পদ্ধতি অনুযায়ী মালয় মুসলিমদের (ভূমিপুত্র) জন্য ৬০ শতাংশ কোটা রয়েছে। কারণ জনসংখ্যার দিক দিয়ে তারা অনেক বেশি। মালয়েশিয়াতে সরকারি চাকরির চেয়ে বেসরকারি চাকরিতে বেতন-ভাতার সুবিধা বেশি হওয়ায় ওই দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে কোটা নিয়ে আগ্রহ নেই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে বিভিন্ন অঞ্চলের জনসংখ্যার ভিত্তিতে কোটা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। অঞ্চলভিত্তিক জনসংখ্যার ওপর নির্ভর করে সেই অনুপাতে কোটা সুবিধা দেয়া হয়। তাদের কোটার উদ্দেশ্য, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যৌক্তিক পরিমাণ মানুষ যেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশেও এক সময় কোটা পদ্ধতি উঠানামা করেছে। তবে ১৯৯৭ সালের পর আর কোটা পদ্ধতিতে কাটছাঁট করা হয়নি। দেশে স্বাধীনতার পর  ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সিভিল সার্ভিসে ২০ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়। পরে ১৯৭৬ সালে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ২০ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। ১৯৮৫ সালে আবার একে ৪৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। তবে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন পে-সার্ভিস কমিশনের একজন সদস্য বাদে সবাই সরকারি নিয়োগে কোটা ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। তখন কোটার পক্ষে অবস্থান নেয়া এমএম জামান প্রচলিত কোটাগুলো প্রথম ১০ বছর বহাল রেখে ১৯৮৭ সাল থেকে পরবর্তী ১০ বছরে কমিয়ে দশম বছরে তা বিলুপ্ত করার পক্ষে মত দেন। পরে আর সেটা কমানো হয়নি। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এ ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে। এর আগে গত ৮ই জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে তা সংস্কার বা বাতিলের সুপারিশ সংক্রান্ত কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের ওই কমিটির বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তে বলা হয়, কোটা সংক্রান্ত দেশে-বিদেশে যে তথ্য রয়েছে বা আমাদের বিভিন্ন সময়ে গঠিত কমিশন বা কমিটির যে রিপোর্ট রয়েছে সেই রিপোর্ট যতদ্রুত সম্ভব সংগ্রহ করা হবে। এর ভিত্তিতেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

৮ আসনে প্রার্থী নেই বিএনপির, তবে...

তৃতীয় বেঞ্চে খালেদা জিয়ার রিট খারিজ

মোমেন-মুক্তাদিরের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

সিলেট-১ আসনে জমে উঠেছে লড়াই

ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন: শেখ হাসিনা

উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ওয়াদা আওয়ামী লীগের

বিএনপির ইশতেহারে ১৯ দফা প্রতিশ্রুতি

নিত্যদিনের গণতন্ত্রের অঙ্গীকার

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-০৭-১৯ ২১:৩৪:৩৮

মিলবে কিভাবে । ১০ ভাগ বিশেষ শ্রেণীর জন্য ৫৬ ভাগ চাকরি বরাদ্দ দুনিয়ার কোথাও নাই। প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি।

মোঃ আকতার হোসেন বাকশ

২০১৮-০৭-১৯ ১৮:৩৯:০৩

কোটা পদ্ধদির অপব্যাবহার মাধ্যমে সরকারী লোকদের দূর্ণীতি অব্যাহত।

Omar faruk

২০১৮-০৭-১৯ ১৮:১৭:১৯

যতই লাফালাফি কর !কোন লাভ নেই !কোটা সংস্কার হবেনা ! কারণ , তাতে আমাদের রাজনীতির স্বার্থ নিহিত !!

আপনার মতামত দিন

নরসিংদীতে বিএনপি প্রার্থীর গাড়ী বহরে হামলা, আহত ৫

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রচার সম্পাদক ভিপি হানিফ গ্রেপ্তার

ভেড়ামারায় বোমা হামলার ঘটনায় ৮৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

‘ইন্টারনেটের গতি কমানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনকে বিতর্কিত করবে’

ফেতুল্লাহ গুলেনের ভাইয়ের ছেলের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ-২ আসনে বিএনপির ৩ নেতা গ্রেপ্তার

জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ সালাহ্উদ্দিনের

কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট

বরিশালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলনেত্রীসহ ১৯ বিএনপি নেতাকর্মী আটক

কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু কারাগারে

সিইসির বক্তব্য সঠিক : কাদের

সাহস থাকলে আমাকে গ্রেপ্তার করুন: ড. কামাল

সিইসি’র বক্তব্যের কড়া জবাব মাহবুব তালুকদারের

ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় ধানের শীষ প্রার্থীর নিন্দা

১৪ বছর পর আবার স্বামীকে বিয়ে করলেন নাদিয়া হোসেন

ভোটের দিনে ইন্টারনেটের গতি সীমিত রাখার পরিকল্পনা ইসির