বরিশালে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ, কৌশলী বিএনপি

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে | ২০ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:১২
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগের সামনে বিএনপির অবস্থান অনেকটাই কৌশলী। এবারের সিটি নির্বাচন বিএনপির জন্য মেয়র পদটি ধরে রাখা আর আওয়ামী লীগের জন্য উদ্ধারের নির্বাচন। সরকারে থাকা সত্ত্বেও বরিশালে ২০১৩ সালের নির্বাচনে মেয়র পদ হারায় আওয়ামী লীগ। আর রাজনৈতিক দল হিসেবে কোণঠাসা বিএনপির সে সময়ে এই জয় দক্ষিণাঞ্চলে দলটিকে দারুণ উজ্জীবিত করেছিল। তখন আওয়ামী লীগ চরম অন্তর্কোন্দলে জর্জরিত ছিল ঠিক বিপরীত অবস্থা ছিল বিএনপিতে। আহসান হাবিব কামালের নির্বাচনী প্রচারণায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সরোয়ার। এবার সরোয়ার নিজেই প্রার্থী। দলও সুসংহত।
ভয় ভেঙে বেরিয়ে আসছে নেতাকর্মীরা। আর এতটা ঐক্যবদ্ধ কখনো দেখা যায়নি বরিশাল আওয়ামী লীগকে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের সামনে তাই নানা কৌশলে এগুতে হচ্ছে বিএনপিকে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন হিরণ মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বরিশালে ব্যাপক উন্নয়ন করেন। নিজে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ তার সমর্থক হয়ে উঠে। এটাই তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠে। জেলা আর মহানগর দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যায় আওয়ামী লীগ। ২০১৩ সালের নির্বাচনে উন্নয়নের রূপকার হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা হিরণ শেষ পর্যন্ত হেরে যান বিএনপির কামালের কাছে। এরপর ২০১৪ সালে হিরণের মৃত্যুর পর বিভক্ত আওয়ামী লীগকে এক সুতোয় গাঁথেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। কোণঠাসা হয়ে পড়া হিরণপন্থিরা আশ্রয় খোঁজেন হিরণপত্নী জেবুন্নেছা আফরোজ এমপির কাছে। কিন্তু রাজনৈতিক দূরদর্শিতা আর নেতৃত্বের প্রবল অভাব ফুটে উঠে জেবুন্নেছার ভূমিকায়। ধরে রাখতে পারেননি হিরণ সমর্থকদের। শেষ পর্যন্ত হিরণপন্থিদের বড় একটি অংশ সাদিকের সঙ্গে যোগ দিলে পুরো বরিশাল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব চলে যায় তার হাতে। আর বয়স কম হওয়ায়  কেন্দ্রের কিছুটা বিরোধিতা সত্ত্বেও মেয়র পদে সাদিকের মনোনয়ন পেতে কষ্ট হয়নি।

অপরদিকে ২০১৩ সালে বিএনপি থেকে আহসান হাবিব কামালের মনোনয়ন পেতে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু দলের শীর্ষ এক নেতার নির্দেশে তখন কামালকেই মনোনয়ন দিতে হয়। সরোয়ার হন নির্বাচনী সমন্বয়ক। মূলত সরোয়ারের দক্ষ নির্বাচনী পরিচালনা আর আওয়ামী লীগের কোন্দলের কারণে আহসান হাবিব কামাল জিতে যান।

২০১৩ সালে মনোনয়ন পাবার জন্য শর্ত হিসেবে আহসান হাবিব কামালকে মহানগর বিএনপির সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। এরপর তিনি কোন্দল মেটাতে ঘোষণা করেছিলেন আর নির্বাচন করবেন না। কিন্তু আগেভাগেই তিনি এবার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলে দলে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। চান-শিরিনসহ ৯ জন বিএনপির মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন শুধুমাত্র কামালকে ঠেকাতে। সরোয়ার মেয়র পদে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের চাপের মুখেই তিনি দলীয় মনোনয়ন কেনেন এবং প্রার্থী হন। এর ফলে বরিশালে আওয়ামী লীগের তরুণ প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির অভিজ্ঞ প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইটার ভবিষ্যৎ নিয়ে মনোনয়নপত্র ক্রয়ের দিন থেকেই টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়।

সাদিকের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, প্রথমত সে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, দ্বিতীয়ত দক্ষিণাঞ্চল আওয়ামী লীগের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত তুখোড় রাজনীতিবিদ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পুত্র তিনি। প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি না আসলেও পুরো নির্বাচনটিই তার নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে।

অপরদিকে মামলায় জর্জরিত বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রথমদিকে প্রকাশ্য হননি। তবে নির্বাচন কমিশনের কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতায় সাহস পাচ্ছে নেতাকর্মীরা। ঢাকা থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস এবং বরিশালের সন্তান মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এ কারণে ধীরে ধীরে প্রকাশ্য হতে শুরু করেছে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা। দীর্ঘদিন পর সড়ক, মহাসড়কে ধানের শীষের স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে। রাস্তায় রাস্তায় শোভা পাচ্ছে বিএনপির ধানের শীষের পোস্টার। সংখ্যায় তা আওয়ামী লীগের চেয়ে কম হলেও এটি নির্বাচনী কৌশল মনে করছেন অনেকে। সরোয়ার পোস্টার- লিফলেটের চেয়ে ঘরে ঘরে প্রচারণাকে জোর দিচ্ছেন। প্রতিদিনই বিএনপির নির্বাচনী মিছিলে সমাগম বাড়ছে। প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য রাখছেন আব্বাস আলাল, নজরুল ইসলাম ও সরোয়ার। সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি তারা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে প্রকাশ্য প্রচারণার দিক দিয়ে এখনো এগিয়ে নৌকা। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তাদের কাউন্সিলর পদে তরুণদের মনোনয়ন দিয়েও চমক সৃষ্টি করেছেন। এই কাউন্সিলরাই মেয়র পদে নির্বাচনে ভোট সংগ্রহে নিয়ামক ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন নেতৃবৃন্দ। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল জানান, ভোটারদের যে সমর্থন তিনি দেখছেন তাতে ৩০শে জুলাইয়ের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সহজে বিজয়ী হবে। নির্বাচনে দিন-রাত খেটে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার। তিনিও জানান, ঐক্যই এবার তাদের বড় আশা। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না। অপর দিকে বিএনপি নেতা এবায়দুল হক চানের মতে যেভাবে বিএনপির কর্মীরা সাড়া দিতে শুরু করেছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, ভোটাররা ভোট দিতে পারলে জয় তাদের অবশ্যম্ভাবী।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

৮ আসনে প্রার্থী নেই বিএনপির, তবে...

তৃতীয় বেঞ্চে খালেদা জিয়ার রিট খারিজ

মোমেন-মুক্তাদিরের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

সিলেট-১ আসনে জমে উঠেছে লড়াই

ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন: শেখ হাসিনা

উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ওয়াদা আওয়ামী লীগের

বিএনপির ইশতেহারে ১৯ দফা প্রতিশ্রুতি

নিত্যদিনের গণতন্ত্রের অঙ্গীকার

আপনার মতামত দিন

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রচার সম্পাদক ভিপি হানিফ গ্রেপ্তার

ভেড়ামারায় বোমা হামলার ঘটনায় ৮৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

‘ইন্টারনেটের গতি কমানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনকে বিতর্কিত করবে’

ফেতুল্লাহ গুলেনের ভাইয়ের ছেলের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ-২ আসনে বিএনপির ৩ নেতা গ্রেপ্তার

জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ সালাহ্উদ্দিনের

কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট

বরিশালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলনেত্রীসহ ১৯ বিএনপি নেতাকর্মী আটক

কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু কারাগারে

সিইসির বক্তব্য সঠিক : কাদের

সাহস থাকলে আমাকে গ্রেপ্তার করুন: ড. কামাল

সিইসি’র বক্তব্যের কড়া জবাব মাহবুব তালুকদারের

ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় ধানের শীষ প্রার্থীর নিন্দা

১৪ বছর পর আবার স্বামীকে বিয়ে করলেন নাদিয়া হোসেন

ভোটের দিনে ইন্টারনেটের গতি সীমিত রাখার পরিকল্পনা ইসির

মেহেরপুরে বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর