বাজেটে সুদের হার সমন্বয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির হিড়িক

শেষের পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ২৫ জুন ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪১
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাশের পর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার সমন্বয় করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকে সঞ্চয়পত্র কিনতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বছরের শুরু থেকে সঞ্চয়পত্রের চাহিদা ভালোই ছিল। কিন্তু
এখন তা আরো বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে সঞ্চয়পত্র কেনার লাইন। ফলে ভোগান্তিতেও পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মাসে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোতে বিনিয়োগ এসেছে ৬৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। চলতি মাস শেষে তা আরো বাড়বে বলে জানা গেছে। আমানতের সুদহার কমিয়ে আনা ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমার ঘোষণার পর থেকেই সঞ্চয়পত্র কেনার হিড়িক পড়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১০ই মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ হার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল।
গত কয়েক দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে সঞ্চয়পত্র কেনার দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থা ভাল নয়। শেয়ারবাজারে বরাবরের মতই আস্থাহীনতা চলছে। আর ব্যাংকে টাকা রেখে যে পরিমাণ সুদ পাওয়া যায় তার চেয়ে বেশি সুদ পাওয়া যায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে। ফলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগেই স্বস্তিদায়ক। এমনকি বেশি মুনাফার কারণে কেউ কেউ ব্যাংক থেকে টাকা তুলেও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন বলে জানান তারা। নতুন সুদহার কার্যকর হওয়ার আগে সঞ্চয়পত্র কিনলে বর্তমানের নির্ধারিত হারেই সুদ পাবেন গ্রাহকরা। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় সঞ্চয়পত্র কেনার চাপও বেড়েছে।
ঢাকার আজিমপুরের বাসিন্দা তৌফিকুল ইসলাম বলেন, বাজেটের পর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার সমন্বয় করা হতে পারে। তাই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করে সঞ্চয়পত্র কিনতে আসলাম। তবে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সঞ্চয়পত্র কিনতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, গরিব-অসহায় মানুষের আয়ের একটি অন্যতম উৎস সঞ্চয়পত্র। সুদহার কমালে সাধারণ মানুষের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান তিনি। আরেক ক্রেতা শরিফ বলেন, আমানতের সুদহার কমিয়ে ৬ শতাংশ করা হবে জুলাই থেকে। তাহলে আর ব্যাংকে টাকা রেখে লাভ কি? যে টাকা আছে তা দিয়ে কিছু সঞ্চয়পত্র কিনে রাখা অনেক ভালো।
এদিকে বাজেট প্রস্তাবের পরের দিন এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার দুই-তিন বছর পর পর পর্যালোচনা করা হয়। এবার একটু দেরি হয়েছে। এটা বাজেটের মাস বা পরের মাসে পর্যালোচনা করা হবে। এছাড়া গত বুধবার বেসরকারি ব্যাংক পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) এক জরুরি সভায় আগামী ১লা জুলাই থেকে আমানতের ওপর ৬ শতাংশের বেশি সুদ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে এ সিদ্ধান্ত নেন সংগঠনটির নেতারা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোতে বিনিয়োগ এসেছে ৬৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে থেকে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে ২৬ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু মুনাফা পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। মূল ও মুনাফা বাদ দিয়ে এ খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। যা চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার ৯১.০৫ শতাংশ। সংশোধিত বাজেটে সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে ৪৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। মূল বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।
সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট ৭৫ হাজার ১৩৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ পূর্তির কারণে আসল পরিশোধ করা হয়েছে ২২ হাজার ৭১৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আর সুদ বা মুনাফা শোধ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৮১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
গত মার্চ মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ২৯৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে থেকে মূল ও মুনাফা বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। ফলে নিট ঋণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৮৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। এজন্য বিভিন্ন মহল থেকে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোর বিষয়ে বলা হলেও নির্বাচনের আগে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমালে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। তাই সরকার সে পথে হাঁটবে না বলেই অনেকেই মনে করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। ফলে অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো ব্যাংক খাতে।
প্রসঙ্গত জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোতে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর মুনাফা প্রদান করে সরকার। মেয়াদপূর্তির পরে বিনিয়োগকৃত অর্থও ফেরত প্রদান করা হয়। প্রতি মাসে বিক্রি হওয়া সঞ্চয় স্কিমগুলোর প্রাপ্ত বিনিয়োগের হিসাব থেকে আগে বিক্রি হওয়া স্কিমগুলোর মূল ও মুনাফা বাদ দিয়ে নিট ঋণ হিসাব করা হয়। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেটে নির্ধারিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বর্তমানে সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে ১১.৫২ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। পেনশন সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১.৭৬ শতাংশ। ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১.২৮ শতাংশ। ৩ মাস-অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১.০৪ শতাংশ। ৩ বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১.২৮ শতাংশ।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘নাট্য নির্মাতারা এখন ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন’

কোনো দেশের সঙ্গে মিলছে না বাংলাদেশের কোটা পদ্ধতি

সাত বছরে সর্বনিম্ন ফল

অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় ইইউ

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা

রাশিয়ায় বাংলাদেশি তরুণদের আর্তনাদ

সিলেটে উৎসবমুখর পরিবেশ, আছে শঙ্কাও

লিটনের পক্ষে খুলনার মেয়র বুলবুলের পক্ষে গয়েশ্বর

বরিশালে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ, কৌশলী বিএনপি

কোটা আন্দোলন নিয়ে দূতাবাসগুলোর বিবৃতিতে অসন্তোষ

অছাত্রদের হাতেই যাচ্ছে ছাত্রদলের নেতৃত্ব

নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম

গাজীপুরে স্ত্রী-কন্যাকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে আরো দুইদিন

রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি সভায় জনস্রোত

আরিফকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন সেলিম