জনবল সংকট

পশ্চিম জোনে ৮৬ স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ

বাংলারজমিন

জাভেদ ইকবাল, রংপুর থেকে | ২০ মে ২০১৮, রোববার
জনবল সংকটে রেলওয়ে পশ্চিম জোনে ৮৬ রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। অনিয়ম আর দুর্নীতির বোঝা কাঁধে নিয়ে চলা রেলবিভাগের পশ্চিম জোনে যাত্রী সেবার মান দিনের পর দিন হ্রাস পেয়ে শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। যে সকল ট্রেন চলাচল করছে তাও সময়ের কোনো বালাই নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়। রংপুর থেকে ঢাকাগামী দিবাকালীন ট্রেনের জন্য চলছে দিনের পর দিন আন্দোলন। বিগত ১০ বছরে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়া পশ্চিম জোনের ৮৬ রেলস্টেশনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্টেশন মাস্টার না থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ (ক্লোজ ডাউন) করে দিতে বাধ্য হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
তার উপর যখনই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রশ্ন আসে তখনই নড়েচড়ে বসে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। নিয়োগকে ঘিরে শুরু হয় কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য। দেখা দেয় বিরোধ। ফলে বন্ধ হয়ে যায় নিয়োগ প্রক্রিয়া।
রেলের পশ্চিম জোনের পাকশী ডিভিশনের ৪৬টি, লালমনিরহাট ডিভিশনের ৪০টি রেলস্টেশন বন্ধ করা হয়েছে। এসব স্টেশনে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন বন্ধ থাকায় রেল বিভাগও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বেড়েছে জনদুর্ভোগ। নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না বরং নতুন করে স্টেশন মাস্টাররা অবসনে যাওয়ার পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে। ঘটবে নতুন করে আরো স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার রেলপথে ৪৩৫টি রেলস্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনে দায়িত্ব পালনের জন্য মঞ্জুরি রয়েছে ১ হাজার ১৪৪ স্টেশন মাস্টার পদের। কিন্তু র্দীঘদিন ধরে স্টেশন মাস্টারের পদে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় এবং অবসর, স্বেচ্ছায় অবসর ও মৃত্যুর কারণে স্টেশন মাস্টারের ৪২৮টি পদ শূন্য হয়ে পড়ায় বর্তমান অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্ব ও কাজের ক্ষেত্র বিচারে একেকটি রেলস্টেশন ২৪ ঘন্টা চালু রাখতে কমপক্ষে ৩ থেকে ১০ জন স্টেশন মাস্টারের প্রয়োজন। চারটি ডিভিশনে বিভক্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী ডিভিশনের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা জানান, এ ডিভিশনে ১৩৪টি রেলস্টেশনের জন্য ৩৬২ স্টেশন মাস্টারের পদ বরাদ্দ রয়েছে। ১১৬ জন স্টেশন মাস্টারের পদ শূন্য থাকায় ইতোমধ্যে ৪০টি রেল স্টেশন ক্লোজ ডাউন বা বন্ধ ঘোষণ করা হয়েছে। একইভাবে লালমনিরহাট ডিভিশনের বিভাগীয় ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট জানান, এ ডিভিশনে ৮১টি স্টেশনের জন্য ১৭২ স্টেশন মাস্টারের ক্লোজ ডাউন ঘোসনা করা হয়। ফলে ৩৬টি স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৮৬ রেল স্টেশন ক্লোজ হওয়া প্রসঙ্গে রেলওয়ে সূত্র জানায়, নতুন স্টেশন মাস্টার নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতির কোন উন্নতি হবে না। পাকশী বিভাগের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাশহিদুল ইসলাম জানান, এখনই নতুন নিয়োগ দেয়া হলেও প্রশিক্ষণ শেষে কাজে যোগদান করতে আরো দুই বছর বিলম্ব হবে। এ সংকট নিরসনে তিনি এক বছর আগে যোগাযোগ ও রেল মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠান। প্রস্তাবে নতুন নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ শেষে কাজে যোগদানের দুই বছর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাঝে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক পর্যায়ে চালু রাখতে শারীরিকভাবে সমর্থ, দক্ষ ও কাজে আগ্রহী অবসরপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টারদের প্যানেল তৈরি করে তাদের চুক্তিভিত্তিক বা দৈনিক হাজিরাভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রেল মন্ত্রণালয়। রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, স্টেশন মাস্টার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা হওয়ায় তা স্থগিত হয়ে যায়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আইসিইউতে রাজধানী

ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টির চক্রান্ত করছে বিএনপি

ওয়ান ইলেভেনের বেনিফিশিয়ারি আওয়ামী লীগ

যেভাবে ঢাকার মেরামত সম্ভব

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ফারিয়া রিমান্ডে

৪০ লাখ বাংলাভাষী হবে বৃহত্তম রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী!

ইমরান খানই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মওদুদের বাড়ি ঘেরাও করে রাখায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ও আন্দোলনের খসড়া রূপরেখা তৈরি

আত্মমর্যাদা ও মানবাধিকারের স্বপক্ষে একক কণ্ঠস্বর

ঈদের আগে ছাত্রদের মুক্তি দিন: ড. কামাল

‘কার কাছে গেলে ছেলেকে ফেরত পাবো’

বাজপেয়ীকে শেষ বিদায়

পশুবোঝাই ট্রাক ‘ছিনতাই’ শঙ্কায় সিলেটের বেপারিরা

ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঈদযাত্রা

মওদুদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ