পুলিশি বাধায় পণ্ড বিএনপির বিক্ষোভ

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৩২
পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়েছে কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি। লাঠিচার্জের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করার পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গদলের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রোববার ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে গতকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলটি মতিঝিলের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ছিল সতর্ক অবস্থানে।

সকাল থেকে নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও ছিল পুলিশের সতর্ক অবস্থান।
এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ মিছিলের স্থান পরিবর্তন করে বায়তুল মোকাররমে করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। এদিকে মিছিলের স্থান পরিবর্তনের কারণে বায়তুল মোকাররমে নেতাকর্মীরা জড়ো হওয়ার সময় পান মাত্র ২০ মিনিট। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটের আজাদ প্রোডাক্টের সামনে থেকে শুরু হয় পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি দৈনিক বাংলা অভিমুখে কিছুদূর যেতেই ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সামনে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ।

বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকে ইট-পাটকেল। পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হয় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি শিবলী নোমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। বিক্ষোভকারীরা সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায় পুরানা পল্টনে।

এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি খন্দকার এনামুল হক এনাম, তেজগাঁও থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান কবির, ঢাকা মহানগর যুবদল আল আমিন, শাহবাগ থানা বিএনপি নেতা আবুল, পিন্টু ফরাজী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রনেতা মনিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সদস্য জুয়েল খান, নিউ মার্কেট থানা ছাত্রদল নেতা সুমন সরকার, আসিফ চৌকিদার, চকবাজার থানা ছাত্রদল নেতা তুহিন, জনি, রাহাত, আবির, লালবাগ থানা ছাত্রদল নেতা রুবেল, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রদল নেতা আয়াত, রিজভী, রিফাত, অপি খান, খিলগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এলিজ আহমেদ মিঠু, মামুন, নাজমুল হোসেন, কবির হোসেন, কদমতলী থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা টিপু, মুগদা থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ছোট ইসমাইল, সজীব, মহিদুল, লালবাগ থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জয়, সাইফুল, শাওনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৩০ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।

এ সময় ছাত্রদলের একজন কর্মী রাস্তায় পড়ে গেলে পুলিশের এক অফিসার তার মাথায় পিস্তল ধরে শুইয়ে রাখে। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে। এ ছাড়া সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলা টিভির রিপোর্টার আরমান কায়েস ও তার ক্যামেরাম্যানকেও আটক করে পুলিশ। পরে সাংবাদিকরা থানায় গেলে আটক দুই সাংবাদিককে ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশের লাঠিচার্জে ছাত্রদল নেতা শাহনেওয়াজসহ অনেকেই আহত হন। পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি শিবলী নোমান বলেন, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তারা মিছিল বের করে। আচমকা গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তাদের ইটপাটকেলের আঘাতে আমিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এই ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সাংবাদিকের আটকের ব্যাপারে তিনি বলেন, কিছু একটা নিয়ে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মিছিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদলের সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, মীর নেওয়াজ আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সহসভাপতি আতিক আল হাসান মিন্টু, আলমগীর হাসান সোহান, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আকতারুজ্জামান বাচ্চুসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

ওদিকে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে গতকাল বিক্ষোভ কর্মসূচিটি ছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির। কিন্তু বিক্ষোভে অংশ নেননি কেন্দ্রীয় ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র নেতারা। মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আত্মগোপনে এবং সাধারণ সম্পাদক কারাগারে থাকায় নগর বিএনপির নেতাদের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

রবি

২০১৮-০৪-২৩ ২২:৫৬:১৮

কিছু কিছু পুলিশ ভাই কে বলবো অন্যায় কিছু করিয়েন না যা সমাজের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়।

হাবিবুর রহমান

২০১৮-০৪-২৩ ১৪:৩৩:১১

প্রশাসেনর কর্মকতাদের এরকম আচরন জাতীর জন্য হতাশা জনক জনগন ভুমেরাং হলে পালাবার পথ পাওয়া য়াবে না, সময় থাকতে জনগনকে গনতন্তের পথে হাটতে দিন।

Zahiruddin Mohd Baba

২০১৮-০৪-২৪ ০০:৫২:৫৩

আমাদের নিয়তি যা তা-ই তো হবে। এর বাইরে কি? এ যুগে শুধু জ্যামেতিক হারে নিপীড়নের মাত্রা বেড়েছে। তখন আমরা পরাধীন ছিলাম। অথচ এখন স্বাধীন বাংলাদেশে পুলিশ রাজনৈতিক নিপীড়ন বাংলাদেশে নিয়মে পরিণত হয়েছে।বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। পুলিশকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যা তৈরি করেছে। আসুন সবাই মিলে তারস্বরে বলি- জয় হোক ভোটের, গণতন্ত্রের।

আপনার মতামত দিন

ঐক্য ফ্রন্টের গোড়াতেই গলদ: কাদের

রাজবাড়ীতে ট্রেন-ভটভটি সংঘর্ষে নিহত ৩

সরকারকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে হবে: মওদুদ

অশুভ শক্তিকে রুখে দিতে হবে: প্রেসিডেন্ট

সৌম্যের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়েকে সহজেই হারালো বিসিবি

জাতীয় ঈদগাহে আইয়ুব বাচ্চুর জানাজা সম্পন্ন

র আমাকে হত্যা করতে চায় এ খবর ভিত্তিহীন: সিরিসেনা

ময়মনসিংহ মেডিকেলের লোটে শেরিং এখন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

এবার সৌদি বিনিয়োগ সম্মেলন বয়কট করল যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও আইএমএফ

তালেবান হামলায় কান্দাহারের গভর্নর, পুলিশপ্রধান ও গোয়েন্দাপ্রধান নিহত

খেলাফত মজলিসের আমীর হাবিবুর রহমানের ইন্তেকাল

বিকল্প ধারার তিন নেতাকে অব্যাহতি

ময়মনসিংহে মেইল ট্রেন লাইনচ্যুত

আইয়ুব বাচ্চুর জন্য স্টেজে কাঁদলেন জেমস

রূপগঞ্জে অপহৃত শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

‘প্রত্যেক পাঠক-দর্শকের ভেতরে একজন মিসির আলি বাস করেন’