আলালসহ গ্রেপ্তার অর্ধশত

পুলিশি অ্যাকশনে পণ্ড বিএনপির কর্মসূচি

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৫২
পুলিশের লাঠিচার্জ, রঙিন পানি নিক্ষেপ ও নির্বিচার গ্রেপ্তারের কারণে রাজধানীতে কালো পতাকা কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ বানচাল করার প্রতিবাদে বিএনপি প্রথমে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। পরে কর্মসূচি পাল্টে মিছিলের বদলে কালো পতাকা প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয় । গতকাল কর্মসূচি পালনে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের ফুটপাথে দাঁড়ানোর পরপরই শুরু হয় পুলিশের অ্যাকশন। প্রথমে লাঠিপেটা ও গ্রেপ্তার, পরে রঙিন পানি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে মুহূর্তের মধ্যেই পাল্টে যায় পরিবেশ। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিটি এভাবেই ভেস্তে যায়। গ্রেপ্তার হন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, পরিবার কল্যাণবিষয়ক সহ-সমপাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু, ত্রাণবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি নেওয়াজ হালিমা আরলি, সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহিম হাওলাদার সেতুসহ অনেকেই। বিএনপি দাবি করেছে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দেড় শতাধিক এবং আহতের সংখ্যা ২৩০।
আত্মরক্ষার্থে কার্যালয়ে আশ্রয় নেয়া নেতাকর্মীরা হয়ে পড়েন অবরুদ্ধ। পরে দুপুরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে কার্যালয় ছাড়েন নেতাকর্মীরা। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচির ওপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় ও দেশব্যাপী জেলা সদর ও মহানগরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।
কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকে নেতাকর্মীরা। বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকালেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)সহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বেলা ১০টার দিকে বিএনপি কার্যালয়ের কাছেই মোতায়েন করা হয় জলকামান, রায়ট কার ও প্রিজন ভ্যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য সতর্ক অবস্থানে থাকলেও পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। দলের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ দলের কয়েকশ’ নেতাকর্মীও স্বাভাবিকভাবেই সমবেত হওয়ার সুযোগ পায় নয়াপল্টনে। বেলা সোয়া ১০টার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কার্যালয়ে থেকে বেরিয়ে কালো পতাকা প্রদর্শনে দাঁড়াতে যান। কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কালো পতাকা হাতে স্লোগান দিতে থাকেন নেতাকর্মীরা। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই পাল্টে যায় গোটা পরিবেশ। সাড়ে ১০টার দিকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফটকের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীরা বসে পড়ার পর প্রথমে ধাওয়া, লাঠিপেটা ও গ্রেপ্তার শুরু করে পুলিশ। এরপর জল কামানের গাড়িটি সক্রিয় হয়, গরম রঙিন জল ছুড়তে থাকে ফটকের সামনে অবস্থান নেয়া নেতাকর্মীদের ওপর। ওই সময় বিএনপি মহাসচিব হাত উঁচিয়ে পুলিশকে তা ছুড়তে বারণ করলে জলকামানের নল বিএনপি মহাসচিবের দিকেই তাক করে পুলিশ। মুহূর্তের মধ্যেই মির্জা আলমগীরের সাদা স্ট্রাইপের ফুল শার্ট ভিজে যায়। তার প্যান্ট ও মুখমণ্ডলেও লাগে রঙিন পানির ছটা। মহাসচিবকে বাঁচাতে কয়েকজন নেতাকর্মী পানির সামনে দাঁড়ালেও রক্ষা হয়নি। এক পর্যায়ে বিএনপি মহাসচিবকে কয়েকজন নেতাকর্মী ফটকের ভেতরে  নিয়ে যান। কার্যালয় সূত্র জানায়, পুলিশের ছিটানো রঙিন পানিতে ভেজার পর দোকান থেকে পাঞ্জাবি ও পায়জামা কিনে আনিয়ে ভেজা কাপড় পরিবর্তন করেন বিএনপি মহাসচিব। একদিকে রঙিন পানি ও লাঠিচার্জ অন্যদিকে আত্মরক্ষার্থে নেতাকর্মীদের হুড়োহুড়ি। সেই সঙ্গে শুরু হয় ধরপাকড়। আহতদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই সর্বাধিক। কেবল রঙিন পানি নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি পুলিশ। নেতাকর্মীদের আটক করতে নয়াপল্টনে প্রতিটি গলির মুখে বসানো হয়েছিল ফাঁদ। আত্মরক্ষার্থে ছুটোছুটির সময় আশেপাশের গলিমুখ থেকে একের পর এক কর্মী-সমর্থককে আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে বিএনপির কার্যালয় লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ছুড়ে পুলিশ। এতে অবর্ণনীয় এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়া নেতাকর্মীরা। পুলিশের লাঠিচার্জ ও নির্বিচার গ্রেপ্তারের কারণে কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেও আশেপাশের এলাকা থেকে ফিরে যান বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে নেতাকর্মীরা ফের কার্যালয়ের সামনে বের হয়ে কালোপতাকা হাতে স্লোগান দিতে শুরু করে। সাড়ে ১১টার দিকে দ্বিতীয়বার ধাওয়া দিয়ে কর্মী-সমর্থকদের কার্যালয়ে ঢুকিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় কার্যালয়ের গেট থেকে বিএনপির সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ দলের ৭-৮ কর্মীকে ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে টেনে হিঁচড়ে নেয়ার সময় তিনি রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় তাকে পিটিয়ে গাড়িতে তোলা হয়। এতে কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থানরত দলের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ কয়েকশ’ কর্মী-সমর্থক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অবরুদ্ধ অবস্থায় ব্রিফিং করে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উস্কানিতে পুলিশের এমন চড়াও হওয়ার ঘটনাকে সরকারের তরফে উস্কানি বলে অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থলে থাকা ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার এএসএম শিবলী নোমান সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির কর্মসূচি পালনের অনুমতি ছিল না। সড়ক দখল করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হতে পারে না। তাই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এদিকে বিএনপি মহাসচিবের ব্রিফিংয়ের কিছুক্ষণ পর সোয়া ১২টার দিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ৮-১০ জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে কার্যালয় থেকে বের হন। সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পাশ থেকে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে ঘাড় জাপটে ধরে শার্টের কলার ও বুকের-পিঠের কাপড় টেনে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। দুপুর পৌনে একটার দিকে কার্যালয়ের সামনে থেকে কিছু পুলিশ সদস্যকে সরিয়ে নেয়া হয়। বেলা একটার দিকে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত মহিলা নেতাকর্মীদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।  দুপুর একটার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানসহ সিনিয়র নেতারা অবরুদ্ধ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। দলের সিনিয়র নেতারা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কার্যালয়ের তিনতলার রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে বড় একটি কালো পতাকা প্রদর্শন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। নয়াপল্টনে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- মহানগর ছাত্রদল নেতা শামিমা সুলতানা শিলা, খোরশেদ, শ্রমিক দল নেতা লিটন মিয়া, ইফতেখার আলম, মো. ইসলাম, মো. ওবায়দুল, মহিলা দল নেতা বেবী, মনিরা, হেনা, ফেরদৌসী, মনিকা, মায়া, নাসিমা, নাসরিন, ডা. নাসিমা তালুকদার, খোরশেদা, শারমিন, শাহীন, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রহিমা শরীফ মায়া, মহিলা দল নেতা শফি আক্তার, রুমী আখতার, শেফালী, পারুল আখতার, মরিয়ম বেগম, সুলতানা, হাওয়া, আছিয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নাসির মোল্লা, ইমতিয়াজ হোসেন বাবু, সেলিম হাওলাদার, সোহান, সাব্বির প্রমুখ। অন্যদিকে পুলিশের লাঠিচার্জে আহতদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বনির্ভরবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি নিলুফা চৌধুরী মনি, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সাবেরা আলাউদ্দিন, শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, জাসাস নেত্রী শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের গাজী রেজওয়ান হোসেন রিয়াজ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সাইদুর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বির, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মনিরা আকতার রিক্তা, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, কেন্দ্রীয় নেতা ফয়সল আহমেদ সজল, সহ-সম্পাদক নাছিমা আক্তার কেয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শাহিনুর সাগর, ছাত্রী বিষয়ক সহ-সম্পাদক শাহিনুর আকতার স্মৃতি, মহিলা দল নেতা ও সাবেক এমপি ইয়াসমিন আরা হক, মিনা বেগম মিনি, আরিফা জেসমিন, রুনা লায়লা, জেসমিন জাহান, সোনিয়া, শাহিনুর প্রমুখ।
সংঘাতের উস্কানি দিচ্ছে সরকার: বিএনপি
সরকার বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে পরিস্থিতি সংঘাতপূর্ণ করতে উস্কানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সরকার উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে ও সংঘাতপূর্ণ করতে চাইছে। কিন্তু বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। সরকার যে ধরনের আচরণ করছে তাতে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তারা দায়ী থাকবে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত ও গ্রেপ্তার করেছে। রঙিন পানি দিয়ে নেতাকর্মীদের ভিজিয়ে দেয়া হয়েছে। কার্যালয়ের ভেতরে টিয়ারশেল মেরে দম বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। পুরুষ পুলিশ কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে দলের ম?হিলা নেতাকর্মীদের টেনেহিঁচড়ে নি?য়ে গে?ছে। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এ ঘটনায় আমরা তীব্র ঘৃণা ও ধিক্কার জানাই। তিনি বলেন, নেতাকর্মীরা ফুটপাথে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়ালে পুলিশ অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে তাদের লাঠিচার্জ ও টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলতে শুরু করে। আমি ইতিমধ্যে কার্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছাতেই নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা আমাকে ঘিরে ধরলে পুলিশ আবারো ধেয়ে আসে। আমি পুলিশ সদস্যদের এমন আচরণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা কোনো উত্তর না দিয়ে রঙিন পানি ছুড়তে শুরু করে লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রাখে। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ বিএনপি অফিসকে লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ছুড়লে কার্যালয়ের ভেতর এক দমবন্ধ করা হিটলারের গ্যাস চেম্বারের মতো বীভৎস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কালো পতাকা প্রদর্শনের শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য মহিলা ও পুরুষ নেতাকর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের অনেকের অবস্থা আশংকাজনক। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দেয়ার কথা বললেও কালো পতাকা প্রদর্শনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে। সরকার প্রমাণ করেছে তারা ‘মুনা?ফেকি’ গণতন্ত্রের চর্চা করে।  দেশ এখন দুর্বিনীত দুঃশাসনের করাল গ্রাসে। গণতন্ত্রের শেষ নিশানাকে নিশ্চিহ্ন করার জন্যই সরকার অগণতান্ত্রিক ও দমনমূলক পন্থা অবলম্বন করছে। একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনে বিরোধী দল ও তাদের সমালোচনাকে বিপজ্জনক মনে করে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত গণবিরোধী শক্তি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইনের শাসন ও আওয়ামী লীগ একসঙ্গে চলতে পারে না। তাই গণতন্ত্রের দাবিতে বিরোধী দলের আওয়াজ শুনলেই উত্তেজিত বাতিকগ্রস্তদের ন্যায় আদিম উল্লাসে সরকারি বাহিনী গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংবিধানে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। এখন বাস্তবতা হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার মালিক আওয়ামী লীগ ও তাদের সাজানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কর্মসূচির অনুমতি না থাকার ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্যের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা তো রাস্তায় নামেননি। তারা ১৪৪ ধারাও ভঙ্গ করেননি। তাহলে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা করবে কেন? সব কর্মসূচির জন্য অনুমতি নিতে হবে কেন? ফুটপাথে দাঁড়িয়ে কালো পতাকা প্রদর্শন করতে পারবো না কেন? এটা তো আমার মৌলিক অধিকার। তাহলে কি ঘরের মধ্যে কথা বলতেও পুলিশের অনুমতি লাগবে? সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার, জয়নুল আবদিন ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, হারুনুর রশীদ, তাইফুল ইসলাম টিপু উপস্থিত ছিলেন। এদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ এক যৌথবিবৃতিতে জানিয়েছেন, কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাদের ৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহিম হাওলাদার সেতু, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন সোহাগ, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার রাসেল, সুমন, বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ফয়সাল রেজা, তেজগাঁও কলেজ শাখার মুনকির হাসান সাগর, ধানমন্ডি থানা ছাত্রদল নেতা শেখ ফারুকুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন- ছাত্রদলের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী। অন্যদিকে শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আশরাফুর রহমান বাবুকে চাঁদপুরের মতলব, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিনকে ফেনী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার আলম ভূঁইয়া রুবেলকে ঢাকা এবং শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আহসানুল হক অথৈকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শনে পুলিশের জলকামান ব্যবহার, লাঠিচার্জ, ব্যাপক ধরপাকড়ের প্রতিবাদ জানিয়েছে জোটের শরিক দল এনডিপি। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
পুলিশি নির্যাতনের শিকার দুই সাংবাদিক
ওদিকে নয়াপল্টনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছে দুই সাংবাদিক। দুপুরে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ডিবি পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার কামরুল হাসানকে হোটেল ভিক্টরীর সামনে থেকে তুলে নিয়ে প্রথমে পাশের গলি ও পরে হোটেলের লবিতে নিয়ে যায়। সেখানে কামরুলকে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফেসবুক আইডি ঘাঁটাঘাঁটি করে। পরিচয়পত্রের ছবি তুলে বলে ‘তোকে টার্গেটে রেখেছি।’ কিছুক্ষণ পর একই বিটে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে কামরুলকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির কালোপতাকা কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশে নয়াপল্টন গেলে হোটেল ভিক্টোরির সামনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ জার্নালের স্টাফ রিপোর্টার কিরণ শেখকে ঘিরে ধরে পরিচয় জানতে চায় পুলিশ। কিরণ নিজের পরিচয় দিয়ে কার্ড বের করলে পল্টন থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কুবায়েত তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে দেয়। কিরণ প্রতিবাদ করলে তাকে চড় ও লাথি মারতে মারতে রাস্তায় ফেলে দেয়। তারপর অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে বলে- ‘একদম চুপ, কোনো কথা বলবি না। যেদিক থেকে এসেছিস সেদিকে ফিরে যা’। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর এমন নির্যাতনের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি। সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ডিআরইউ চত্বরে সাংবাদিকরা মানববন্ধন করবে আজ।
প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি
কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল ঢাকায় থানায় থানায় এবং সব মহানগর ও জেলা সদরে প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সরকারের চণ্ডনীতির কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেপরোয়া সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করছে। তারা বিবেক-বিবেচনাহীন হয়ে বিরোধী দলের ওপর হামলা করছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উস্কানিতে কদর্য, হিংস্র আক্রমণের প্রতিবাদে ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সোমবার ঢাকায় থানায় থানায় এবং মহানগর ও জেলা সদরে প্রতিবাদ মিছিল করবে বিএনপি। রিজভী অভিযোগ কর বলেন, পুলিশি আক্রমণে অন্তত ২৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিজভী বলেন, আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসার জন্য নিতে আসা সাতটি অ্যাম্বুলেন্সও ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। অত্যাচারী রাষ্ট্রে নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিবাদ দমন করার জন্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের আচরণে মনে হয়-বিএনপির নেতাকর্মীদের কেউ মারা গেলে তাদের জানাজা, দাফন ও আত্মার মাগফিরাতে জন্য মিলাদ করতে গেলেও পুলিশের অনুমতি লাগবে। পুলিশের হাতে এখন গণতন্ত্রের মৃত্যু পরোয়ানা। পুলিশি আক্রমণে বিএনপি নেতাকর্মীদের অবস্থা অবিশ্বাস্য ও মর্মস্পর্শী। দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশি আচরণের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সাবেক এমপি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের সঙ্গে পুলিশ যে নৃশংস আচরণ করেছে তা মনুষ্যত্বহীন। তার ঘাড় জাপটে ধরে শার্টের কলার ও বুকের-পিঠের কাপড় টেনে সিএনজিতে তোলা হয়। একজন শিক্ষিত ও মননশীল রাজনীতিবিদের সঙ্গে পুলিশের এই আচরণ আমাদের সেই অভিযোগটি প্রমাণিত হলো যে, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভরা হয়েছে।
কর্মসূচি পণ্ড করে দেয়ার পর নয়াপল্টনের বিভিন্ন গলিতে অভিযান চালিয়েও বিএনপিকর্মীদের আটক করে পুলিশ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Asad

২০১৮-০২-২৪ ১৫:২৭:৪৪

Democracy died 4 years ago!!!

আপনার মতামত দিন

ঢাকা দখলের ঘোষণা ১৪ দলের

প্রেসিডেন্টের আশা, সব দল নির্বাচনে অংশ নিবে

বাংলাদেশের রাজীবকে ফেসবুকের ফেলোশিপ প্রদান

শেহজাদের সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে আফগানদের পুঁজি ২৫২

এস কে সিনহার ঘটনা প্রকাশ্যে আসলে আরো দুর্গন্ধ ছড়াবে

ফারমার্স ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

ইবি ছাত্রদলের স্মারকলিপি ফিরিয়ে দিলো প্রশাসন

পরবর্তী শুনানি আগামীকাল, আইনজীবী না থাকায় আদালতের উষ্মা

মৌলভীবাজারে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের মিছিল ও পথসভা

‘মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে’

পাচারকারী নারীর সঙ্গে কেজরিওয়ালের ছবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়

ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাশের হার ১৪ শতাংশ

শহিদুল আলমের ডিভিশনের আপিল শুনানি ১লা অক্টোবর

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় আওয়ামী লীগ

১লা অক্টোবর থেকে রেডি হয়ে যান : মওদুদ

বৃহস্পতিবারের পরিবর্তে বিএনপির জনসভা শনিবার